গাইবান্ধায় একটি বিক্ষোভ সমাবেশে হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতাপেটার ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজু ভাস্কর্যে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন নারী হলের সনাতনী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এসময় জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক রাম প্রসাদ সাহা তপু বলেন, “শ্রী রামচন্দ্র আমাদের দশ অবতারের মধ্যে অন্যতম আরাধ্য। সম্প্রতি একটি উগ্রবাদী শক্তি রামচন্দ্রকে নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে, তারপর আরেকটি উগ্রবাদী শক্তি আমাদের আরাধ্য দেবতার ছবিতে জুতাপেটা করেছে। এর মাধ্যমে সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।আমরা দেশের সল মানুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক থাকতে চাই। কিন্তু একটি গোষ্ঠি আমাদের বিভাজন করতে চায়,সে শক্তিকে রুখে দিতে হবে।”
এজিএস দ্বীপজয় সরকার দ্বীপ্ত বলেন, “গত দুই বছরে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্ম অবমাননার নামে অসংখ্য হামলা হয়েছে, অনেক মামলা হয়েছে, কিন্তু কোনো মামলারই বিচার হয়নি। উল্টো দেখেছি, দীপু চন্দ্র দাশের হত্যাকারীকে প্রকাশ্যে জামিন দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে হিন্দুদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হলে তার কোনো বিচার হয় না। এক দেশে দুই নীতি চলতে পারে না।”
হল সংসদের জিএস সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, “নির্বাচনের আগে যেকোনো সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচনের পরে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আর পালন করা হয় না। বর্তমান সরকারকে আহ্বান করব, দ্রুত এ অবমাননাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।” এসময় দ্রুত বিচার না হলে আগামী শুক্রবার আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের পর মিছিলটি কিছুক্ষণের জন্য শাহবাগ অবরোধ করে। এসময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে গাইবান্ধায় দেশের বৃহত্তম রাম মূর্তি নির্মানকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি করেন তারা।