ডাকসু নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা
দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের টাইমলাইন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। তারা দিন-তারিখ ঘোষণা করবে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন, নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধন এবং পরামর্শদানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ করে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা সিন্ডিকেটে ডাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুমোদন পায়। গত ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের ডাকসু আচরণবিধি সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে পেশ করেছে।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ নামে গৃহীত এই সংশোধিত আচরণমালায় ১৭টি ধারার ৪৮টি উপধারা রয়েছে। এতে প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ, নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয় কার্যাবলি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণসহ নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা লংঘনে শাস্তির বিধান স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, একজন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ছাপানো ও বিলি করার ক্ষেত্রে সাদা-কালো রঙ ব্যবহার করবে। এসব মাধ্যমে নিজের সাদা-কালো ছবি ব্যতীত অন্য কারো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় চুন, কালি বা কেমিক্যাল দিয়ে দেয়াল বা যানবাহনে ছাপচিত্র বা আঁকতে পারবে না। পাশাপাশি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল নষ্ট করা যাবে না।
ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে চাঁদা, অনুদান বা আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারকালে ও নির্বাচনের দিন ভোটারদের কোনোরূপ উপঢৌকন বা বকশিশ দেওয়া, পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন করাসহ কোনো প্রার্থীর পক্ষে ছবি সংবলিত টি-শার্ট বা পোশাক পরে ভোটারদের প্রচারণা চালানো যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও অন্য প্রার্থীর চরিত্র হনন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট অনলাইন সাইট বা গ্রুপ বন্ধ করে দেবেন।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনের ২৪ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত প্রচার করা যাবে। প্রতিদিন প্রচারের সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে রাত ১০টার পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না।
এছাড়াও প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করতে পারবে না। এজন্য অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হবে। ভোটের দিন কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে স্লিপ বিতরণ করতে পারবে না প্রার্থীরা। নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচন চলাকালে কেউ বিস্ফোরক, দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবে না।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিধিমালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ডাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আচরণ বিধিমালা সংশোধন কমিটিতে নির্বাচন সম্পর্কিত সব অংশীজনের সঙ্গে আলাপ করে বিধিমালা চূড়ান্ত করেছি। বর্তমান যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তাই আমরা অনলাইন প্রচারণার সামগ্রিক বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছি এবং লঙ্ঘনে শাস্তির বিধানও রেখেছি। সবার সহযোগিতা থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।