চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন (নকল) অভিযোগে ১২ জন শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং আরেকজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
পরীক্ষায় নকলের দায়ে বহিষ্কৃত ১২ শিক্ষার্থী হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম খান ও সাব্বির আহমেদ শিমুল, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার আহমেদ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ওমর ফারুক, এবং স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিরিন আক্তার মারিয়া।
এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সেলিম আহমেদ শিমুল ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সুমাইয়া ফাতিমা, আইসিটি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আবদুল মুস্তফা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মুনিরা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হিজবুল্লাহ আরেফিন তাজবিহ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ হাসমত আলী, এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাঈদ আহমেদ এবং অন্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে গণিত বিভাগের ইকতার জাহান ইতিলাকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দীপক চন্দ্র দেবের ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে নতুন সুপারভাইজারের অধীনে নতুন ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা আপসহীন; নকল বা জালিয়াতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান ব্যাচের সঙ্গে আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না; ভবিষ্যতে পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে।