ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশব্যাপী এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর এবং ঢাবি শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম—বিএনপি জনগণের রায়কে সম্মান জানাবে। কিন্তু নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তারা সেই রায়ের প্রতি চরম অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এগারো দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।
জাহিদ আহসান আরও বলেন, বিএনপি কোথায় কোথায় সহিংসতা চালাচ্ছে—তার ডকুমেন্টেশন জাতীয় ছাত্রশক্তি করছে। দেশের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বিএনপির সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম তথ্যচিত্র ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাধ্যমে একজন কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এটি নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের আগে গত দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আড়াইশোর বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছে।
নির্বাচনের পর গতকাল থেকেই সেই ধারা আবার শুরু হয়েছে।
জাহিদ আহসান বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি দায় ও দরদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
বিএনপির যে নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিংবা গত দেড় বছরে যে আড়াইশো নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন—প্রত্যেকটি হত্যার নিন্দা জানাই এবং বিচার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাস্সির বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিলের পরিবর্তে দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় তারা দোয়া মাহফিল করে, আর রংপুর ও পঞ্চগড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। একদিকে দোয়া মাহফিল, অন্যদিকে মানুষের জায়গা-জমি ও বাড়িঘর দখল—এটাই এখন তাদের রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ যখন শোকরানা নামাজ আদায় করছিল, তখন বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় জমি ও ঘরবাড়ি দখলে ব্যস্ত ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে মিলাদ-মাহফিলের ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘরবাড়ি পোড়ানো ও দখলের রাজনীতি চলছে।
নির্বাচনকালীন সহিংসতার বিচার না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। বাগেরহাট, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালানো হলেও দলটির হাইকমান্ড পুরোপুরি নিশ্চুপ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদলসহ বিএনপির দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনাকে গুজব প্রমাণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক গণমাধ্যম হামলাকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তাহমিদ আল মুদাস্সির বলেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি হামলা চালানোর পরও তাদের রক্ষা করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আমরা নতুন আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্মের আশঙ্কা করছি।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ বা নতুন দানব দেখতে চাই না।