আবারও ফিরে এসেছে রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আলপনায় রাঙানো বেদি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদি ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা বেদির চারপাশে ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাল-সাদা রঙের সমাহারে পুরো প্রাঙ্গণ রক্তঝরা একুশের আবহে সেজে উঠেছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শন করে প্রস্তুতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিকে দিবসটি ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ‘শঙ্কা নেই’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাপক লোকসমাগম হবে। এ উপলক্ষে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই বিষয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শহীদ মিনার এলাকায় ইনার ও আউটার পেরিমিটারভিত্তিক নিরাপত্তাবলয় গঠন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ডগ স্কোয়াড স্ট্যান্ডবাই থাকবে। এছাড়া ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশব্যাপী ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এসব কর্মসূচি ঘিরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্দোলন বা দাবি আদায়ের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সব মিলিয়ে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রক্তিম আবহে সেজে উঠেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে অমর একুশে পালনে প্রস্তুত রাজধানী।