হোম > ফিচার > ক্যাম্পাস

রাকসু নির্বাচনে যত চ্যালেঞ্জ

ইমরান হোসাইন, রাজশাহী থেকে

ডাকসু, জাকসু ও চাকসুর পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি পারবে এই চ্যালেঞ্জসমূহ উতরে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে?

ছাত্র সংসদ এই নির্বাচনে অনাবাসিক ৬২% শিক্ষার্থী ভোটে অংশগ্রহণ, এই বিপুলসংখ্যক অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন নিশ্চিত করা, ৯ টি ভেন্যুর ১৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করাসহ নানাবিধ চ্যালেঞ্জ।

১. ৬২% অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে ভোটের দিনে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮৯০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা এবারের নির্বাচনে ভোটার। এসব শিক্ষার্থীর ৩৮ শতাংশ আবাসিক হলেও বাকী ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকেন ক্যাম্পাসের বাইরে। চারভাগের তিনভাগ অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে ভোটের দিনে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও নির্বাচনের গোলযোগের শঙ্কাও ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক একজন শিক্ষার্থী আমার দেশকে বলেন, ফিক্সড ভোট ব্যাংকে এগিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। ছাত্র। শিবিরের আবাসিক ও অনাবাসিক ভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার এবং ছাত্রদলের ১ হাজার থেকে ১৫ শত ফিক্সড ভোট রয়েছে৷ এই সংখ্যক শিক্ষার্থী নিশ্চিতভাবেই ভোট দিতে ক্যাম্পাসে আসবে। অন্যদিকে অন্যান্য প্যানেল কিংবা দলের ফিক্সড ভোট তেমন নেই, ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি ভোট দিতে না আসে তাহলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল 'ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম' এর ভিপি প্রার্থী শেখ নুরুদ্দিন আবির আমার দেশকে বলেন, আমরা প্রচারণার সময় যখন শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়েছি তাদের মাঝে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আগ্রহ দেখেছি অনেক। দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসু হচ্ছে, অনেক রাকসু নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। তবে কিছু শিক্ষার্থীর অনীহা থাকায় হয়ত কেউ কেউ ক্যাম্পাসে আসতে চাইবেনা। আমরা প্রতিটি ব্যাচের ক্যাপটেনদের বলেছি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য।

ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ আমার দেশকে বলেন, হলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি হলে উপস্থিতি নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। আমাদের প্রায় চারভাগের তিনভাগ শিক্ষার্থী যেহেতু বাধ্য হয়ে বাহিরে থাকে, প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান করছি পরিবহন ব্যবস্থা যেন ভালো হয়।

জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৭ টি হল রয়েছে। এর মধ্যে ছেলেদের জন্য ১১ টি হল ও মেয়েদের ৬টি হলে প্রায় ৯ শিক্ষার্থী রয়েছে।

২. বিপুলসংখ্যক অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবহন নিশ্চিত করা

ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে উৎসব মুখর ও ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে হলে অনাবাসিক ৬২% শিক্ষার্থীকে ভোট প্রদান করতে আসা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার, নিউমার্কেট, বর্ণালি, ভদ্রা, তালাইমারিসহ বিভিন্ন জায়গায় মেস বা ছাত্র হোস্টেলে অবস্থান করে। রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন উপজেলায় নিজেদের বাড়িতে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করে। এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য পরিবহন নিশ্চিত করা পরিবহন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভোট দিতে ক্যাম্পাসে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকার আমার দেশকে বলেন, আমাদের আবাসিক সংকট রয়েছে। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে বাহিরে থাকতে হয়। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। রাজশাহী শহর ও আশপাশ থেকে আমাদের ২৫ টি বাস থাকবে ক্যাম্পাসে আসার জন্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আমরা ক্যাম্পাসে আনতে চাই। অন্যান্য দিন ৪টি ট্রিপে বাস আসলেও আজ ৮টি ট্রিপে বাস আসবে।

৩. ৯টি ভেনুর ১৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা

রাকসু নির্বাচনে মোট ২৮৯০১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বিপুলসংখ্যক ভোটারদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ টি ভেনুর ১৭ টি ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে ১৭ টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।  নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশের ৬ টি গেট ও ভোট কেন্দ্রের ৯টি গেটে প্রক্টোরিয়াল বডির ২৮  জন সদস্য ১৫ টিমে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে। প্রক্টোরিয়াল টিমকে সহযোগিতার জন্য  বিএনসিসি, স্কাউট ও কমিউনিটি পুলিশের ৬৮০ জন সদস্য কাজ করবে।  পাশাপাশি  দুই হাজার পুলিশ, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র‍্যাব মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো আশঙ্কা করছি না। ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার কোনো প্রশ্নই আসে না।  আমরা সেইভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছি।

৪. বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ পথের সম্মুখে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়।  জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গেটের সামনে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।  একই ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা আমার দেশকে বলেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে একই অবস্থা আজ রাকসু নির্বাচনেও দেখা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষমতা রয়েছে কি না, এটা নিয়ে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন খান আমার দেশকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি। যেহেতু এটা ক্যাম্পাসের বাহিরের বিষয়। এটা আমাদের পক্ষে কন্ট্রোল করার সম্ভব নয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটলে সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে সামাল দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল গণনা শুরু হবে।

অনার্স শেষেও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পিডিএফ-এর ১৫ সদস্য পাচ্ছেন শিক্ষা বৃত্তি

কুবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬ হাজার পজিশনেও সাবজেক্ট

ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা, ডাকসুর নিন্দা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসুর নিন্দা

চবিতে দুইদিনে ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আমার দেশের তাওহীদ, সম্পাদক ওসমান