হোম > শিক্ষা > প্রাথমিক

অপেশাদার কাজে ৯৩ শতাংশ শিক্ষক, নেতিবাচক প্রভাব প্রাথমিক শিক্ষায়

নেপের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৩ শতাংশ শিক্ষক দায়িত্বের বাইরে নানা অপেশাদার কাজে জড়িত রয়েছেন। অপেশাদার কাজের এ অতিরিক্ত চাপ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান, শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের শিখনফলে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) পরিচালিত এক গবেষণায় ।

‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হলরুমে আয়োজিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর শামসুজ্জামান এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।

উপদেষ্টা বলেন, এ গবেষণার তথ্য হয়তো নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে, তবে এর উদ্দেশ্য আরো বৃহৎ—এনজিও, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে সরকারের ওপর একটি ইতিবাচক চাপ তৈরি হয় এবং শিক্ষকদের শিক্ষার বাইরে নানা কাজে ব্যবহার না করা হয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব অপেশাদার কাজে বছরে সরকারের প্রায় এক হাজার ৭১০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং এর প্রভাবে প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষক লেট-স্টেজ বার্নআউটের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গবেষণায় মোট ৩৭ প্রকারের অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল কাজ শনাক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের করতে হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জরিপে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়। আর বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও হোম ভিজিটে সর্বনিম্ন সময় ব্যয় হয়। নন-প্রফেশনাল কাজে মাসিক গড়ে শিক্ষক প্রতি প্রায় ২৪ কর্মঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে।

নন-প্রফেশনাল কাজে শিক্ষকরা বেশি সময় ব্যয় করলে সার্বিকভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যায়। অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারে না এবং পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পিছিয়ে পড়া বা সুবিধাবঞ্চিত। এসব শিক্ষার্থীর জন্য ‘রেমিডিয়াল’ বা বিশেষ ক্লাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও ৮৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, নন-প্রফেশনাল কাজের চাপের কারণে তারা এসব বিশেষ ক্লাস নিতে পারছেন না।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, ক্লাস চলাকালীন কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা প্রশাসনিক কাজ শিক্ষকদের ওপর প্রতিটি বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী বা ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করতে হবে। একক ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে সব দাপ্তরিক কাজ সমন্বয় করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যেন শিক্ষার গুণগত মান ও ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি ‘টিচিং আওয়ার প্রটেকশন পলিসি’ প্রণয়ন করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল

এখনো অনেক বই পায়নি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা