দুইমাস ধরে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতা
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার দুইমাস পরেও চাকরিতে যোগদান করতে পারেনি। এনিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে দ্রুত যোগদানের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। একমাসের ব্যবধানে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ডোপ টেস্টসহ সব ধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন । পরে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নিয়োগের সুপারিশ পান।
নিয়ম অনুযায়ী এর পরপরই যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গত দুই মাস ধরে প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। এনিয়ে মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুরে মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানকে ফোন করা হলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয় তিনি এখন মিটিংয়ে আছেন। পরে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিয়োগের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনায় অপেক্ষায় রয়েছে তারা। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেলেই যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দুই মাস পরেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এবং ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুঞ্জনে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। একই সঙ্গে দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। মঙ্গলবার বিকালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সামনে সংবাদ সম্মেলনে থেকে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে হুমায়ুন বলেন, 'দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রায় ১৫ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী এবং তাদের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এই অবস্থায় দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
এর আগে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে ১৩ এপ্রিল একই দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দেন তারা। এতে তারা আরো বলেন, ৬১টি জেলার হাজারো প্রার্থীর মেডিক্যাল ও ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পরও মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল পুনরায় যাচাই করা হতে পারে বলে কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।