হোম > শিক্ষা > মাধ্যমিক

মাধ্যমিকের পাঠ্যবই মুদ্রণ এখনো বাকি, এনসিটিবির লক্ষ্যমাত্রা ২২ জানুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

চলতি শিক্ষাবর্ষে সব স্তরে বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সব বইয়ের মুদ্রণ ও সরবরাহ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তর মিলিয়ে পাঠ্যবই মুদ্রণের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই দুই স্তরে সারাদেশে বই সরবরাহের গড় হার ৯৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, গত ১৭ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত ইবতেদায়ি স্তরের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৯৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বই মুদ্রণ শেষ হয়, যা গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, অবশিষ্ট অল্পসংখ্যক বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাই কাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পাঠ্যবই হাতে পায়।

এনসিটিবির ‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ’ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শতভাগ মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এ স্তরে মোট ৫টি শ্রেণিতে ৩ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭টি বইয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ বই মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষ হয়েছে। ৩৫টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ৮২ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ফর্মা মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরে ১০২টি প্রেসের মাধ্যমে বই মুদ্রণের সার্বিক অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ৭ম শ্রেণিতে ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, ৮ম শ্রেণিতে ৯৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ৯ম শ্রেণিতে ৯৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭টি বইয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫৫টি বই মুদ্রণ শেষ হয়েছে। বাঁধাই সম্পন্ন হয়েছে ৯৮ দশমিক ০৪ শতাংশ বইয়ের এবং প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) হয়েছে ৯৫ দশমিক ০৫ শতাংশ বইয়ের। এ পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে ১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩১১টি বই সরবরাহ করা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে ২২ জানুয়ারির মধ্যেই অবশিষ্ট সব বইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, বই মুদ্রণ ও বাঁধাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কিছু বইয়ের পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়ার প্রয়োজন না হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বই সরবরাহ সম্ভব হতো। দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মীরপুর গার্লস আইডিয়ালের বরখাস্ত শিক্ষক বিপাশার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

এখনো অনেক বই পায়নি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা