হোম > শিক্ষা > লেখাপড়া

আইসিটি দ্বিতীয় অধ্যায় অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

মো. খালেদ চৌধুরী

আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) বিষয়ের অনুধাবনমূলক (খ) প্রশ্নের উত্তর লেখার একটি নির্দিষ্ট ও কার্যকর নিয়ম রয়েছে। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকে ২ নম্বর। পরীক্ষকের কাছ থেকে পূর্ণ ২-এ ২ পেতে উত্তরটি দুটি প্যারা বা অংশে লেখা সবচেয়ে ভালো।

অনুধাবনমূলক উত্তর লেখার কাঠামো

প্রথম প্যারা : জ্ঞানমূলক অংশ (Direct Answer)

  • প্রশ্নের মূল কথা বা আসল উত্তরটি এখানে এক বা দুই লাইনে একদম সরাসরি লিখে দিতে হবে।

দ্বিতীয় প্যারা : অনুধাবনমূলক অংশ (Explanation)

  • প্রথম প্যারার সংজ্ঞা বা মূল কথাটিকে এখানে তিন থেকে পাঁচ লাইনে একটু ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করতে হবে।
  • প্রয়োজনে কোনো উদাহরণ বা এর কাজ/বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে পার।
  • এই অংশটি প্রথম প্যারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

উত্তর খুব বেশি বড় করার প্রয়োজন নেই। চার থেকে ছয় লাইনের মধ্যে (দুই প্যারা মিলিয়ে) উত্তর শেষ করাটাই শ্রেয়। অতিরিক্ত লিখলে সময় নষ্ট হবে।

১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে সময় বেশি লাগে কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : যে ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেমে প্রেরকের কাছ থেকে ডেটা গ্রাহকের কাছে ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হয়, তাকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।

অসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা স্থানান্তরের সময় প্রতিটি ক্যারেক্টারের সঙ্গে ১টি স্টার্ট বিট ও ১/২টি স্টপ বিট যুক্ত হয়। এছাড়া প্রতিটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার মাঝখানে সবসময় বিরতি সমান হয় না, ভিন্নও হয়ে থাকে। এ কারণেই অ্যাসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনে সময় বেশি লাগে।

২. শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ব্যবহৃত ডেটা ট্রান্সমিশন মোড—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : যে মোডে ডেটা প্রেরক থেকে প্রাপকে এবং প্রাপক থেকে প্রেরকে উভয় দিকেই প্রবাহিত হয়, কিন্তু একই সময়ে ঘটে না, তাকে হাফ ডুপ্লেক্স মোড বলে।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীরা নীরব থাকে, তখন ডেটা শিক্ষক থেকে ছাত্রদের দিকে যায়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্তর শোনার সময় শিক্ষক নীরব হয়ে শোনেন, তখন ডেটা ছাত্র থেকে শিক্ষকের দিকে যায়। তাই এই ডেটা ট্রান্সমিশন হাফ ডুপ্লেক্সের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

৩. ‘ডেটা আদান ও প্রদান একই সময়ে সম্ভব’—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ফুল ডুপ্লেক্স ট্রান্সমিশন মোডে একই সময়ে ডেটা আদান ও প্রদান সম্ভব।

অর্থাৎ এ মোডে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপক উভয় দিক থেকে একই সময়ে ডেটা প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়। ফুল ডুপ্লেক্স ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক ও প্রেরকের জন্য ডেটা আদান-প্রদানে দুটি পৃথক চ্যানেল ব্যবহার করা হয় বিধায় এক্ষেত্রে যেকোনো প্রান্ত একই সময়ে ডেটা প্রেরণ করার সময় ডেটা গ্রহণও করা যায়। টেলিফোন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি হলো ফুল ডুপ্লেক্স ডেটা ট্রান্সমিশন মোডের উদাহরণ।

৪. ডেটা পরিবহনে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল নিরাপদ—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ফাইবার অপটিকের মাধ্যমে ডেটা পরিবহন অনেক বেশি নিরাপদ।

অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত সরু এক ধরনের কাচের তন্তু, যার মধ্য দিয়ে আলোর গতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবার মাধ্যমের ওপর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড, অন্য কোনো সিগন্যাল কিংবা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার প্রভাব নেই বিধায় এর মাধ্যমে ডেটা প্রবাহিত হওয়ার সময় কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত বা পরিবর্তিত হয় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই এর ডেটা ট্রান্সফার অন্যান্য যেকোনো কেব্‌লের তুলনায় নিরাপদ থাকে। ডেটা পরিবহনে ব্যবহৃত কপার কেব্‌লকে খুব সহজেই ট্যাপ করা যায়। এসব কারণেই ডেটা পরিবহনে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল অনেক বেশি নিরাপদ।

৫. স্বল্প দূরত্বে বিনা খরচে ডেটা আদান প্রদান সম্ভব—ব্যাখ্যা করো?

উত্তর : Bluetooth-এর মাধ্যমে স্বল্প দূরত্বে বিনা খরচে ডেটা ট্রান্সফার সম্ভব।

Bluetooth হচ্ছে তারবিহীন পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, যা স্বল্প দূরত্বে (১০-১০০ মিটার) ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। Bluetooth-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফাংশনালিটির ডিভাইস, যেমন মোবাইল ফোন, নোটবুক, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ইত্যাদি একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। Bluetooth স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফিগার করতে পারে বলে অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না।

৬. হাবের পরিবর্তে সুইচ ব্যবহার করলে কী সুবিধা পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : হাব হচ্ছে একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যার কাজ হচ্ছে নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে এনে সংযুক্ত করা।

হাব তার কাছে আসা যেকোনো সংকেতকে শুধু Broadcast করে। অর্থাৎ হাবের কাছে কোনো সিগন্যাল এলে হাব সেটিকে তার সঙ্গে সংযুক্ত সব কম্পিউটারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। সুইচ প্রায় হাবের মতোই কাজ করে থাকে। এটি নির্দিষ্ট প্রাপকের MAC অ্যাড্রেস চিনে কেবল সেই নির্দিষ্ট ডিভাইসেই ডেটা পাঠায়।

৭. কোন টপোলোজিতে নোডগুলো পরস্পর তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মেশ টপোলোজিতে নোডগুলো পরস্পর তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।

মেশ টপোলজি হলো এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অন্য প্রতিটি ডিভাইসের সঙ্গে সরাসরি বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযুক্ত থাকে। এই টপোলোজিতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য কম্পিউটারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে, ফলে যেকোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য যেকোনো কম্পিউটারের সঙ্গে সরাসরি দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে তাই মেশ টপোলোজি।

৮. স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রক্রিয়াটি ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও সার্ভিসগুলো ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রদান করা হয়। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে আপডেটও পেয়ে থাকেন। এই পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয় বলে ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে কিছু করতে হয় না।

সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনে ‘স্বপ্ন সারথী’র সংবর্ধনা

দ্বীন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় সম্মেলন

শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জরুরি: ইউজিসি সদস্য

দেশের সব সরকারি কলেজের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি

পরিবর্তন হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবায় রাবি প্রশাসনের ২ অ্যাম্বুলেন্স

বেফাকের সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

শুধু পড়া নয়, নিজের প্রস্তুতিও যাচাই করবে শিক্ষার্থীরা

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু