যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে ওপেনএআইয়ের সহায়তা নেন অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়াহ। তাই ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি তদন্তে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টামপা বে ২৮ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল উথমিয়ার বলেন, লিমন ও বৃষ্টি খুনের ঘটনায় ওপেনএআইকে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আদালতের নথিতে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল।
উথমিয়ার জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনে এই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ২১ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে উথমিয়ার দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে হওয়া একটি হামলার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি সাহায্য করে থাকতে পারে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার নতুন এই জোড়া খুনের মামলাটি যুক্ত করা হলো।
যেভাবে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন অভিযুক্ত
গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার আগে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন।
রোববার প্রকাশিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে লাশ গুম করার বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন— যদি কাউকে ‘একটি কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী ঘটবে?’ চ্যাটপিটি জবাবে জানিয়েছে, এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। এরপর হিশাম প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে?’
নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ১৫ এপ্রিল হিশাম চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, ‘একটি গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা সম্ভব?’ এরপর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক পরেই তিনি জানতে চান, ‘হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়ি পরীক্ষা করা হয়?’ ওই রাতেই লিমনের লাশ উদ্ধারের স্থানে হিশামের ফোনের লোকেশন পাওয়া যায়।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস লিমন ও বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের হত্যার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সি হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।