বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান। ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী এই আয়োজনে স্মরণ করা হবে ৪৫ গুণিজনকে।
আজ ১৮ মে, বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রথম পর্বে স্মরণ করা হয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ লগ্ন থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তৈরি করেছেন ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ সহ অসংখ্য কালজয়ী গান।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অনুষ্ঠান অধিশাখা) মাকসুদা খন্দকার। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণী এই শিল্পীর সন্তান জনাব সামির ইমতিয়াজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক জনাব মেহজাবীন রহমান। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শিলা দেবী ও শিল্পী রিমি কর।
এরপর বিকাল ৫টায় স্মরণ করা হয় সংগীতের কিংবদন্তি রকস্টার, গিটারিস্ট, সুরকার ও গীতিকার আইয়ুব বাচ্চুকে। তিনি বাংলাদেশী রক ব্যান্ড ‘এল আর বি’ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ও গিটারবাদক হিসেবে পুরো বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশে রক এবং পপ সংস্কৃতির একজন আইকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জনপ্রিয় এই শিল্পীকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (লাইব্রেরি, সংসদ ও আইন শাখা) মো. খালিদ হোসেন এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর সহধর্মিণী ফেরদৌস আক্তার। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী পলাশ ও শিল্পী সোহানুর রহমান।
সন্ধ্যা ৬টায় স্মরণ করা হয় বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সংগীতের অবিসংবাদিত অগ্রপথিক এবং পপগুরু আজম খান-কে। তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। তিনি আজম খান নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন মুক্তিযোদ্ধা, সংগীতশিল্পী, অভিনেতা, ক্রিকেটার ও বিজ্ঞাপনের মডেল। এই কিংবদন্তি শিল্পী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে তিনি বাংলা পপ ও রক গানের এক নতুন ধারার সূচনা করেন। আজম খানকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজম খানের সন্তান আরমান খান। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আরমান খান ও শিল্পী আব্দুল্লাহেল রাফি তালুকদার।
সন্ধ্যা ৭টায় স্মরণ করা হয় বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখান্দ্-কে। তিনি বাংলাদেশী জাতীয় রেডিও নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বেতার-এর সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর সংগীতায়োজনে করা বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘এই নীল মনিহার’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ এবং ‘আমায় ডেকো না’। খ্যাতিমান এই গুণীশিল্পী কে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব গোলাম মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলী সুমন ও শিল্পী ফাহাল হোসাইন অন্তু।
রাত ৮টায় দিনের শেষ অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী এবং সুরকার শাফিন আহমেদ-কে স্মরণ করা হয়। তিনি মাইলস ব্যান্ডের বেজ গিটারিস্ট এবং প্রধান গায়ক ছিলেন। সঙ্গীতের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তাঁর সুমধুর কণ্ঠ ও কালজয়ী সুরের মাধ্যমে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। প্রয়াত এই গুণিজনকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারই সহোদর হামিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী হামিন আহমেদ ও শিল্পী অন্তরা রহমান।