জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীপ্রাপ্ত জাদুঘর ‘লুভর মিউজিয়াম’। সম্প্রতি এক শুনানিতে মিউজিয়ামটির নতুন পরিচালক স্বয়ং এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। কিছুদিন আগেই এই জাদুঘর থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের রাজকীয় অলংকার চুরির একটি দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে, যার পর থেকেই এর অভ্যন্তরীণ নানা সংকট প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
সিনেট কমিটির সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে লুভরের নতুন পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো বলেন, ‘এর রাজকীয় মহিমান্বিত রূপ এবং কর্মীদের প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম সত্ত্বে, লুভর মিউজিয়াম আসলে এখন ধুঁকছে। এর ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর মেয়াদ বা কার্যকারিতা একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।’
শিল্প ইতিহাসবিদ লেরিবো মূলত অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্পকলা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। গত অক্টোবর মাসে দিনের আলোয় জাদুঘর থেকে রাজকীয় অলংকার চুরির এক লজ্জাজনক ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে লুভরের হাল ধরেন লেরিবো। ওই চুরির ঘটনাটি জাদুঘরের দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দিয়েছিল।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’র বাসস্থান এই লুভর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দর্শনার্থীমুখর জাদুঘর। প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এটি পরিদর্শনে আসেন। সেন্ট্রাল প্যারিসে সেন নদীর তীরে অবস্থিত এই বিশাল প্রাসাদের শতাব্দী ধরে ফরাসি রাজপরিবার তৈরি করেছিল, যা একসময় তাদের সরকারি বাসস্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।
লেরিবো আরও জানান, ‘ভবনসংক্রান্ত জরুরি সমস্যাগুলো ক্রমাগত জমা হচ্ছে এবং আমরা বড় ধরনের বিনিয়োগ সংকটের মুখোমুখি হয়েছি।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্মঘটের কারণে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি, প্রায় ১ কোটি ইউরোর (১ কোটি ১৭ লাখ ডলার) টিকিট জালিয়াতি, ভবনে পানি চুইয়ে পড়া (ওয়াটার লিক) এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নানা জটিলতায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই শিল্পতীর্থ।
এসআর