মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। লন্ডনে তার কেমোথেরাপির দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।
তিনি আরো বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থার কখনো কিছুটা উন্নতি হচ্ছে, আবার কখনো কিছুটা অবনতি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে তার কেমোথেরাপির দ্বিতীয় ধাপ চলছে, যা জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে।’
চিকিৎসা চলাকালে ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান লিটন। তিনি বলেন, ‘তার চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কবে দেশে ফিরবেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে জুলাইয়ে দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকের অনুমতি পেলে তিনি হয়তো আগস্টে কিছু সময়ের জন্য দেশে আসতে পারেন। পুরো বিষয়টি চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও চিকিৎসার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চনের মানসিক অবস্থার ওপরও কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান লিটন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত কর্মঠ একজন মানুষ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তিনি এখন সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন, তবে আগের মতো সেই চনমনে ভাবটি নেই। কিছু বিষয় তার মনে থাকছে, আবার কিছু বিষয় ভুলে যাচ্ছেন।’
লিটন আরো জানান, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং তার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে তিনি কয়েকশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান।
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারান ইলিয়াস কাঞ্চন। ওই ঘটনার পর তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে যুক্ত হন এবং প্রতিষ্ঠা করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন।