নব্বই দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের কালজয়ী নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর বিচার দাবিতে ফের সোচ্চার হয়েছেন সালমান শাহর পরিবার ও কোটি ভক্ত। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই মামলার অন্যতম আসামী সামিরা (সালমান শাহ্র সাবেক স্ত্রী) দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন? আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতের এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহ্র এক ভক্ত আমাদের জানিয়েছে। সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা পালিয়ে ভারতে গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘ তিন দশক আগের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন নীলা চৌধুরী। মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে শত কোটি টাকার প্রলোভন ও ক্রমাগত হুমকির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর সালমান মারা যায়। ওই বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এক মন্ত্রী যিনি আজিজ মোহাম্মদের (সালমান শাহ হত্যা মামলার আরেক আসামী) বন্ধু ছিলেন। সেই ব্যক্তির নাম বলতে চাই না, মনে হয় উনি বেঁচে নেই। তিনি আমার বাসায় বলেছিলেন, ভাবী আপনাকে ১০০ কোটি দেয়া হবে, এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ কইরেন। আমি তাকে বলছিলাম, ভাই আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।’
তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে সালমান শাহর সাথে অভিনেত্রী শাবনূরের প্রেমের যে গুঞ্জন প্রচলিত ছিল, সংবাদ সম্মেলনে তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেন তাঁর মা। নীলা চৌধুরী জানান, সালমান ও শাবনূরের মধ্যে কেবল পেশাগত ও ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। সালমানের কোনো নিজের বোন না থাকায় তিনি শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই স্নেহ ও সহযোগিতা করতেন। প্রেম বা অনৈতিক সম্পর্কের এই গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসভবন থেকে সালমান শাহর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করা হয়। তিন দশক ধরে মামলা ও তদন্তের নানা মোড় পেরিয়ে এখনো পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও বিচার নিষ্পত্তি অপেক্ষায় রয়েছে।