হোম > বিনোদন > তারকা সংবাদ

পাকিস্তান থেকে যেভাবে বাংলার নায়ক হয়েছিলেন জাভেদ

বিনোদন রিপোর্টার

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের বর্ণিল নায়ক হয়ে আবির্ভাব হয়েছিল ইলিয়াস জাভেদের। পাকিস্তানে জন্ম হলেও, ভালোবাসা আর ভালোলাগা থেকে তিনি তাঁর জীবন কাটিয়েছিলেন বাংলাদেশেই। যে দেশকে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন হৃদয়ের গভীর থেকে, শেষ পর্যন্ত এই বাংলাদেশের মাটিতেই তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল।

তবে জাভেদ নায়ক হওয়ার আগে তার প্রধান পরিচয় ছিল, তিনি এ দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৃত্যপরিচালক। তাঁর প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ে। কিংবদন্তি সাধু মহারাজ ও শম্ভু মহারাজের কাছে তালিম নেন তিনি। বলিউডের প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সঙ্গে একসঙ্গে নাচ শেখার অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর।

নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। ১৯৬৪ সালে উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। তবে ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘পায়েল’ ছবিটি তাঁকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। নায়করাজ রাজ্জাক ও শাবানার সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন জাভেদ।

এরপর ‘নিশান’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা পৌঁছে যায় শীর্ষে। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে অপরিহার্য নায়ক হয়ে উঠেন তিনি।

‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নরম গরম’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘চোরের রাজা’, ‘জালিম রাজকন্যা’—এমন অসংখ্য আলোচিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। শাবানা, ববিতা, কবরী, অলিভিয়া, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, নূতন ও সুচরিতার মতো জনপ্রিয় নায়িকাদের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকনন্দিত।

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য পরিচালনায় নতুন ধারা আনেন জাভেদ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সিনেমার নাচে আসে এক নতুন যুগ। কবরী, শাবানা, ববিতা, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, সুচরিতাসহ প্রায় সব শীর্ষ নায়িকা তাঁর কোরিওগ্রাফিতে পর্দা মাতিয়েছেন।

শুধু নায়িকারা নন, রাজ্জাক, আলমগীর, সোহেল রানা, ওয়াসিম, ফারুক, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো নায়করা নাচ শিখেছেন তাঁর কাছ থেকে। নাচের গুরু হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি ছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র ‘ওস্তাদ’।

জাভেদের স্ত্রী ডলি জাভেদের ভাষায়, নায়ক বা কোরিওগ্রাফার—দুই পরিচয়েই তিনি ছিলেন সুপারস্টার। শেষ সময়ে হয়তো তাঁকে ঘিরে আলোচনার ঝলক কম, কিন্তু প্রকৃত শিল্পীরা কখনো ভুলেন না। তাকে সসময়ই তাঁকে স্মরণেও সম্মানে রেখেছেন।

একসময় পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকায় বসবাস করতেন জাভেদ। এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সম্মানে সেই মহল্লাটিই পরিচিত হয়ে ওঠে তাঁর নামেই, ‘জাভেদ মহল্লা’। সুস্থ অবস্থায় সুযোগ পেলেই তিনি ফিরে যেতেন সেই এলাকায়, সময় কাটাতেন প্রিয় মানুষদের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে।

সেখানেই, আজ বুধবার, ২১ জানুয়ারি, সকালে উত্তরার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

‘শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু, তোমাকে আমি কখনো ভুলব না’

ইলিয়াস কাঞ্চনের ফেরার প্রত্যাশায় তারকারা

এফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা, দাফন উত্তরায়

যেমন করে সময় কাটছে শবনমের

তিন দশকের ফ্রেমে তিশা-ফারুকীর গল্প

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন, অব্যাহতি চান খিজির হায়াত

দুর্নীতির অভিযোগে মমতাজের চার বাড়ি ও প্লট জব্দের নির্দেশ

শিবা শানু ও আব্দুল্লাহ রানার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব

মারা গেছেন ‘সীমানা পেরিয়ে’-এর নায়িকা জয়শ্রী কবির

পরীমনির থেকে মুক্তি চান আসিফ