তার পিতা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ কবি। ‘তুলি দুই হাত, করি মোনাজাত’-এর কবি গোলাম মুস্তফার ছেলে মুস্তফা মনোয়ার। বাবার মতোই ছিলেন শিল্প-সংস্কৃতিতে সমুজ্জ্বল। তিনি বিখ্যাত কার্টুন 'মীনা'-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বিটিভির জনপ্রিয় পাপেট শো 'মনের কথা'-র উপস্থাপক ছিলেন। পাপেট শোয়ের মাধ্যমে দেশের মানুষকে সচেতন করে গেছেন। ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক। কিংবদন্তি শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ৮০ র দশকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় তাঁর পদচারণা ছিল।
সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে খ্যাত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। গতকাল সকালে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে আনা হয়। এসময় বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানান সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহবাহী গাড়িটি বিটিভি প্রাঙ্গণ থেকে শহীদ মিনারে পৌঁছা বেলা ১১টায়। এরপর থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পালা শুরু হয়।
শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলা, কাজী তামান্না ও গোলাম রাব্বানী। ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া নাট্য ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রাচ্যনাট, বটতলা, দুরন্ত স্টেশন এবং বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল এই গুণী শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে।
এর আগে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে এই শিল্পীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদমিনার থেকে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ আধা ঘণ্টার জন্য নেওয়া হয় তার প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। তারপর বিকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় মুস্তাফা মনোয়ারকে। এ সময় দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানান একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারকে।