আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছে গণ অর্থায়নে নির্মিত সিনেমা ‘সাঁতাও’। নেপালের কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত ১৪তম ‘নেপাল আফ্রিকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ পুরস্কার জিতেছে।
খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩ সালে। মুক্তির তিন বছর পরও পুরস্কৃত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সুমন। তিনি বলেন, ‘মুক্তির এত বছর পরও ‘সাঁতাও’ আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে— এটা আমার জন্য আবেগের। সত্যিকারের মানুষের গল্প কখনো পুরোনো হয়ে যায় না—এই পুরস্কার সেটারই প্রমাণ।’
প্রান্তিক মানুষের জীবন কাহিনি নিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন আইনুন পুতুল ও ফজলুল হক।
‘সাঁতাও’ সিনেমার গল্প কৃষকদের সংগ্রামী জীবন এবং প্রান্তিক পটভূমি থেকে নারীদের সর্বজনীন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। পরিচালনার পাশাপাশি খন্দকার সুমন ‘সাঁতাও’ সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সাবেরা ইয়াসমিন, তশমিতা শিমু, মিতু সরকার প্রমুখ।
চলচ্চিত্র উৎসবটির এবারের আসরে বিশ্বের ২০টি দেশের ৪৩টি চলচ্চিত্র অংশ নেয়। এর মধ্যে ২০টি নেপালি এবং ১৯টি দেশের ২৩টি চলচ্চিত্র ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে প্রদর্শিত হয়।
‘সাঁতাও’ ছাড়া উৎসবের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে একাধিক চলচ্চিত্র পুরস্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিমেল ফিল্ম’ ক্যাটাগরিতে শায়লা রহমান তিথি পরিচালিত ‘লেটার অব ফলেন লিভস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল শর্টস’ ক্যাটাগরিতে ‘স্পেশাল ম্যানশন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে সাগর ইসলামের ‘নো ডাইস’।
এছাড়া ‘বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি’ পুরস্কার পেয়েছে ইউক্রেনের ‘নট শিডিউলড অর ফাইটিং টু লার্ন’। ‘সেরা আফ্রিকান চলচ্চিত্র’ নির্বাচিত হয়েছে মিশরের ‘দ্য মানকি’। ‘সেরা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ পুরস্কার জিতেছে ভারতের ‘বিলউ’।
গত ১৯ জানুয়ারি উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণা ও বিতরণ করা হয়। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে নির্মাতা খন্দকার সুমন নেপালে উপস্থিত থাকতে পারেননি। উৎসব পরিচালক ডাব্বু ক্ষেত্রির কাছ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তির সংবাদটি জানতে পারেন।
এর আগেও ‘সাঁতাও’ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে।