নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের অপতৎপরতার প্রতিবাদে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাতে দলের গুলশান অঞ্চলের উদ্যোগে রাজধানীর নতুন বাজারে ভাটারা থানার সামনে থেকে এই মিছিল বের হয়ে সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আমরা সরকারকে একটি বার্তা দিতে চাই, যে ফ্যাসিস্টরা আমাদের শত শত মায়ের কোল খালি করেছে, যারা এ দেশে আয়নাঘর সৃষ্টি করেছে, যারা কোটি কোটি টাকা পাচার ও গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে, তাদের ঠাঁই এ বাংলাদেশে হতে পারে না।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—যেখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর টহল থাকে, সেখানে ওই ফ্যাসিবাদীরা মিছিল করার সাহস পায় কোথা থেকে? বিক্ষুব্ধ মিছিলকারীরা বলেছেন—ফ্যাসিবাদীরা মিছিল করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে? আমরা বলতে চাই—কুসুম কুসুম প্রেম ছাড়ুন। আপনারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুসুম-কুসুম প্রেমের খেলা খেলছেন, সেখান থেকে অবশ্যই আপনাদের ফিরে আসতে হবে। ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যেকটি মিছিলের কারণ এ সরকারকে জানাতে হবে।
ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আমার মায়ের আর্তনাদ এখনো থামেনি, পঙ্গুত্ববরণকারীদের ব্যথা এখনো কমেনি, তার মধ্যে ফ্যাসিবাদীরা আস্ফালন-দুঃসাহস দেখাচ্ছে, আমরা সরকারের কাছে তার সুস্পষ্ট জবাব চাই। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এ সরকারের ফ্যাসিবাদীদের বিচারে শিথিলতার কারণেই তারা দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তাদের ৬ দফার দ্বিতীয় দফা দাবি ছিল—অবিলম্বে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬/১৭ বছর পুলিশ বাহিনী জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মিছিল না করলেও ঘর থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। আমরা কোথাও নাশতা করার জন্য বসলেও নাশকতার গন্ধ পাওয়া যেত। অথচ আজকে ফ্যাসিবাদীরা মিছিল করলেও তাদের খবর কেন পান না, জাতি তা জানতে চায়। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে বিএনপির এ ধরনের অপকর্ম আমরা সহ্য করব না। অবশ্যই এই ফ্যাসিবাদীদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। সরকার বিচার নিয়ে টালবাহানা করলে আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের গুলশান পূর্ব থানা আমির জিল্লুর রহমান, ভাটারা থানা আমির রেজাউল করিম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন গুলশান পশ্চিম থানা আমির মাহমুদুর রহমান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মিজানুর রহমান খান।