হোম > ফিচার

দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাই আবাসন খাতে সাফল্যের ভিত্তি

শাহেদ-বিন-আলী

আমার দেশ গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের আবাসন খাতে ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ কতটা বিস্তৃত হচ্ছে?

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক, শিল্প ও ইস্পাত খাতের মতো আবাসন খাতও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে এ খাতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার সুযোগ। আধুনিক স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, গ্রিন বিল্ডিং টেকনোলজি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তি, ফিন্যান্স, কাস্টমার সার্ভিস এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এবং করপোরেট সেলসেও দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ার কারণে আবাসন খাতে ক্যারিয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্র ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। যারা নিজেদের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত করতে পারবেন, তাদের জন্য এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

বেকারত্ব কমাতে আবাসন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?

আবাসন খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। নির্মাণ প্রকল্প, প্রকৌশল, স্থাপত্য, সাইট ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থা, বিপণন, গ্রাহকসেবা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার মানুষের প্রয়োজন হয়। বিনোদন ও অবকাঠামোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রিন টেকনোলজি, টেকসই নির্মাণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে নতুন ধরনের পেশা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের পথ সহজ হবে এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব কমাতে সহায়তা পাওয়া যাবে।

আবাসন খাতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন কোন ধাপ অনুসরণ করা হয়?

একটি কার্যকর নিয়োগপ্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো পদের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী নির্বাচন করা। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাদারত্ব এবং যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রথমে প্রতিষ্ঠানের জনবল চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। এরপর পদ ও যোগ্যতার বিবরণসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন জব পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পেশাগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা যেতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। পদের ধরন অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা, কারিগরি মূল্যায়ন কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। এরপর এইচআর বিভাগ, সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বা একাধিক ধাপে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। নির্বাচিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্ম-অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স যাচাই করা হয়। সবশেষে নিয়োগপত্র প্রদান এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি, কর্মসংস্কৃতি ও দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে ওরিয়েন্টেশন বা ইনডাকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে প্রার্থীদের কোন কোন বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রথমেই বুঝতে হবে, সব পদের জন্য একই ধরনের প্রস্তুতি কার্যকর নয়। সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব ও যোগ্যতা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রকৌশলী ও স্থপতিদের জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, নকশা তৈরি, নির্মাণপ্রযুক্তি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা থাকা প্রয়োজন। AutoCAD, Revit ও Building Information Modeling (BIM)-এর মতো সফটওয়্যারের ব্যবহারিক দক্ষতা তাদের কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে। অন্যদিকে ফিন্যান্স, মানবসম্পদ, প্রশাসন কিংবা বিপণন বিভাগের প্রার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি MS Excel, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টুল ব্যবহারের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। সেলস ও মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, যোগাযোগ, উপস্থাপনা এবং দর-কষাকষির দক্ষতাও প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং পেশাগত আচরণে গুরুত্ব দিতে হবে। সাক্ষাৎকারের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, প্রকল্প, মূল্যবোধ ও কাজের ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত। এতে প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

আবাসন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

তরুণদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, শুধু শিক্ষাগত সনদের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। আবাসন খাতের কাজের ধরন বুঝতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মজীবনের শুরুতে নতুন বিষয় শেখার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে গ্রিন আর্কিটেকচার, টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তি, জ্বালানিসাশ্রয়ী ভবন, ডিজিটাল নির্মাণব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে কাজ করা, দলগত সহযোগিতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা প্রয়োজন। নিজের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি সফল ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে ধারাবাহিকভাবে শেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে।

প্রজাপতি পা দিয়ে স্বাদ নেয়

বলপয়েন্ট কলমের নানা কথা

এশিয়ার সুন্দরতম দেশ ভিয়েতনাম

বায়েজিদ বোস্তামি ও ভণ্ড দরবেশ

এআইয়ের যুগে ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতেই যেসব দক্ষতায় জোর দিতে হবে

প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ রায়হান

ছয় বছরে এক দিনও ক্লাস মিস নেই, নাজমুল পেলেন সম্মাননা

স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না: মন্ত্রী

'আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই'

দেয়াল যখন টিভিপর্দা