হোম > ফিচার

ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ড বাজারে শতাব্দীপ্রাচীন কারুশিল্পের জগৎ

সিএনএন

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার। ছবি: সিএনএন

প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষের পদচারণে মুখর থাকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার। পর্যটকদের ভিড়, ঝলমলে দোকান আর দরদামের ব্যস্ততার আড়ালে এখানে টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন এক জগৎ। ছোট ছোট কর্মশালায় এখনো হাতে তৈরি হয় মূল্যবান অলংকার। বংশপরম্পরায় কারিগরেরা শিখছেন ও শেখাচ্ছেন এই শিল্প। আধুনিকতার চাপে মানুষের রুচি ও বিলাসপণ্যের ব্যবহার বদলালেও বাজারটির প্রাণ ধরে রেখেছে তাদের দক্ষতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও হাতে কাজ করার ঐতিহ্য।

৭৮ বছর বয়সি উমিত বের্কসয় এই ঐতিহ্যেরই একজন প্রতিনিধি। ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ড বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অলংকারের ব্যবসা করছেন তিনি। সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি পাথরের ওপর আতশি কাচ হাতে ঝুঁকে পড়েন। কুঁচকে যাওয়া কাপড়ের ভেতরে ঝলমল করছে পাথরটি। আলতো করে আঙুল বুলিয়ে বের্কসয় বলেন, ‘এটি অনেক দিন ধরে সিন্দুকে পড়ে আছে। এত বড় চুনি এখন আর পাওয়া যায় না। আংটির জন্য একেবারে উপযুক্ত।’

পাথরটি হাতে নিয়ে নতুন একটি অলংকার তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেন তিনি। এভাবেই গ্র্যান্ড বাজারের অভিজ্ঞ কারিগরেরা মূল্যবান উপকরণকে শিল্পে রূপ দেন। তাদের কাজের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সূক্ষ্ম দক্ষতা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বাজারে নানা উপকরণকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন কারিগরেরা। তুরস্কের বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ—আর্মেনীয়, গ্রিক, ইহুদি ও সিরীয় খ্রিষ্টান—এখানে পাশাপাশি কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক। এসব সম্পর্কই বাজারটির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

এই বাণিজ্যজগতের ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৪৫৩ সালে। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে কনস্টান্টিনোপল দখলের পর অটোমান সাম্রাজ্যের ২১ বছর বয়সি সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ গ্র্যান্ড বাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

‘একটি শহর গড়ে তোলা এবং তার মানুষের হৃদয় জয় করার মধ্যেই প্রকৃত দক্ষতা,’ বলেছিলেন বিজেতা মেহমেদ। তার প্রয়োজন ছিল এমন একটি বাণিজ্যকেন্দ্র, যা তার স্থাপনা নির্মাণের ব্যয় জোগাবে এবং নানা জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের চাহিদা পূরণ করবে।

শত শত বছর ধরে বিস্তৃত হয়েছে গ্র্যান্ড বাজার। বড় বড় ভূমিকম্পের ধাক্কাও সামলে এটি হয়ে উঠেছে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। একই সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কারিগর তৈরির এক বিশাল প্রশিক্ষণক্ষেত্রে।

অটোমান শিল্পকলার ইতিহাসবিদ মুস্তাফা জেজারের বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারের আঁকাবাঁকা গলিগুলো একসময় ‘সামরিক ব্যারাকের মতো সুশৃঙ্খল’ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব গলি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পেশার ভিত্তিতে ভাগ হয়ে যায়। গলিগুলোর নামও রাখা হয় সংশ্লিষ্ট পেশার নামে।

বিদেশি পর্যটকদের রুচি ও নতুন প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দোকানের ধরন বদলেছে। তবে মোটা গাঁথুনির দেয়ালের আড়ালে বাজারটির মূল চেতনা এখনো টিকে আছে বলে মনে করেন বের্কসয়।

পর্যটকদের দল ও রাস্তার বিক্রেতাদের পাশ কাটিয়ে তিনি এগিয়ে যান বাজারের ভেতরে। একেকটি গলি দেখিয়ে বোঝান অলংকার, রুপার সামগ্রী, চামড়ার পণ্য, ঐতিহ্যবাহী স্মারক ও হাতে তৈরি কার্পেটের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো। হাতের ইশারায় যেন বাতাসে এঁকে দেন বাজারটির অদৃশ্য মানচিত্র।

গ্র্যান্ড বাজারের ১১টি প্রধান প্রবেশপথের একটি নুরুসমানিয়ে ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় ৬৫টি সড়ক, ১৪টি সরাইখানা ও প্রায় ৩ হাজার ৬০০ দোকানের বিশাল জগৎ। প্রতিদিন এখানে আসেন সর্বোচ্চ চার লাখ দর্শনার্থী।

কিন্তু বের্কসয়ের মতে, ঝলমলে এই দৃশ্য বাজারটির বাইরের অংশমাত্র।

তিনি নিচু স্বরে বলেন, ‘এই জৌলুশ আর সম্পদের নিচে, ছোট ছোট কর্মশালায় লুকিয়ে আছে বাজারটির প্রকৃত মূল্য ও সৌন্দর্য।’

বাজারের প্রাণকেন্দ্র

ছয় মিটার উঁচু খিলানযুক্ত ছাদের নিচ দিয়ে এগিয়ে একটি সরাইখানার কাছে থামেন বের্কসয়। সেখানে বাইজেন্টাইন আমলের একটি অলংকরণে ডানা মেলে থাকা ভয়ংকর এক ঈগলের ছবি খোদাই করা। দেয়ালের ছোট একটি বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছে খিলানের ওপর।

বের্কসয় জায়গাটি দেখিয়ে বলেন, গ্র্যান্ড বাজারের মূল কেন্দ্র বলতে এটিকেই বোঝায়। এর নাম জেভাহির বেদেস্তেনি। ১৫টি গম্বুজবিশিষ্ট এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান বাজারটি বিস্তৃত হয়েছে।

অর্থনীতির অধ্যাপক কেনান মরতান ২০১০ সালে গ্র্যান্ড বাজার নিয়ে লেখার সময় সেখানে খোদাই করা একটি বাণীর উল্লেখ করেন। বাণীটির অর্থ, ‘মুনাফা বুনো পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়ায়। এই সরাইখানায় যদি কৌশলে তাকে ধরতে পারো, তবে সমৃদ্ধি আসবে।’

এমন দক্ষতা ও সংযমের সঙ্গে বের্কসয় এবং তার সহকর্মীরা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এই বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। মতবিরোধ মিটিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব। নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের হাতে।

মূল ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বের্কসয়কে দেখা যায় পরিচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। এদিকে পর্যটকেরা দোকানের জানালা দিয়ে পণ্য দেখছেন, ছবি তুলছেন কিংবা দরদাম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

বের্কসয়ের প্রথম গন্তব্য ছোট কাঠের ফ্রেমে তৈরি ‘আপ্রাহাম’ নামের একটি দোকান। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন আর্মেনীয়। ১৮৮২ সাল থেকে এখানে অপরিশোধিত স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু বিক্রি হচ্ছে। দরজার পাশে ঝুলছে একটি তামার ঘণ্টা। দোকানটির ওপরে বাজারের ১২৮টির বেশি নজরদারি ক্যামেরার একটি বসানো রয়েছে। এসব ক্যামেরায় দিনরাত বাজারের সড়ক ও ছাদ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এরপর তিনি যান ‘এপোক’ নামের একটি পুরোনো জিনিসপত্রের দোকানে। ১৮৬৫ সাল থেকে যেন সময় সেখানে থমকে আছে। দোকানটির ৭৬ বছর বয়সি কর্মী গেতভার্ট তেমিনিয়ান কিশোর বয়সে সেখানে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন তার সঙ্গে ব্যবসাটি দেখাশোনা করেন একসময়কার শিক্ষানবিশ ইব্রাহিম হালিল ইয়িসারাচ, বয়স ৬৩ বছর।

তেমিনিয়ান বলেন, ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখন আগের চেয়ে বেশি মানুষ তাদের মূল্যবান জিনিস বিক্রি করতে আসছেন। তবে প্রতিটি পতনের পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আসে। তখনও আমরা এখানে থাকব।’

জেমস বন্ডের দৃশ্য যেখানে বাস্তব

কাছেই ইকিজলার হান নামের ভবনে রয়েছে অলংকার তৈরির অসংখ্য কর্মশালা ও পাইকারি দোকান। ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে এই জায়গায় এসব ব্যবসার বিকাশ শুরু হয়। এখানেই বের্কসয়ের ১২ ক্যারেটের চুনিটি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে।

তার নকশা অনুযায়ী, পাথরটি বসানো হবে একটি স্বর্ণের আংটিতে।

বের্কসয়ের অনেক পাথর এখানকার কর্মশালায় অলংকারে রূপ পেয়েছে। পরে সেগুলোর কিছু যুক্তরাষ্ট্রের বার্নিস নিউইয়র্কের প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সেখানে এসব অলংকার প্রদর্শিত হয়। বছরের পর বছর ধরে বের্কসয়ের তৈরি অলংকার পরেছেন অনেক তারকাও।

গ্র্যান্ড বাজারের প্রতিষ্ঠিত কারিগরদের একজন সেভান হারুনিয়ান, বয়স ৫৪ বছর। কয়েক দশক ধরে তিনি নকশাকে মূল্যবান ধাতুর অলংকারে রূপ দিচ্ছেন। বের্কসয়ের অসংখ্য সৃষ্টিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি। তার ছোট্ট স্বর্ণকারের কর্মশালায় কাটছে এই পেশায় দক্ষতা অর্জনের ৪৬ বছরের অভিজ্ঞতা।

ঘরের মাঝখানে রয়েছে পুরোনো কাঠের বিশাল একটি টেবিল। এর ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানা জিনিসপত্র, আর চারদিকে জট পাকিয়ে রয়েছে অসংখ্য তার। দেয়ালের পাশে গুছিয়ে রাখা ছোট ছোট যন্ত্রের মধ্য থেকে একটি তুলে নেন সেভান। এরপর হাতে থাকা স্বর্ণের কাঠামোর ওপর সেটি দিয়ে সূক্ষ্মভাবে কাজ শুরু করেন।

ঘরের একমাত্র জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে সহজেই মনে পড়ে ২০১২ সালের চলচ্চিত্র ‘স্কাইফল’-এর উদ্বোধনী দৃশ্য। সেখানে অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেগের অভিনীত জেমস বন্ডকে মোটরসাইকেল নিয়ে টালির ছাদজুড়ে ছুটতে দেখা যায়।

বাইরের দৃশ্য দেখে হাসিমুখে সেভান বলেন, ‘এই দৃশ্য কখনো পুরোনো হয় না।’

এই একই ঘরে তার দুই ছেলে আরদা, বয়স ২২ বছর, ও আরাস, বয়স ২৫ বছর, প্রায় ১০ বছর বয়সে প্রথম এই পেশার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল।

হাসতে হাসতে আরাস বলেন, ‘স্কুলের ছুটিতে আমরা খুব সকালে এখানে চলে আসতাম। আমি এখানেই ঘুমাতাম। তখন শুধু দেখতাম, কিংবা বড়জোর বাবা যে সহজ নকশাগুলো দিতেন, সেগুলো তৈরি করার চেষ্টা করতাম।’

ইস্তাম্বুলের মিমার সিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতক আরাস পারিবারিক ব্যবসায় কম্পিউটারভিত্তিক নকশা তৈরির পদ্ধতি চালু করেছেন। এতে অলংকার তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছে তার নিজস্ব দক্ষতা।

অন্যদিকে আরদা বেশি আগ্রহী হাতে-কলমে কাজ করতে। তিনি বলেন, ‘আমার এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি। তাই আপাতত বাড়তি কাজগুলো করে শিখছি। সূক্ষ্ম ও কঠিন কাজগুলো বাবা করেন।’

ইস্তাম্বুলের আর্মেনীয় সম্প্রদায়ে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাইয়ের জন্য পারিবারিক পেশায় যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমানে তুরস্কে সংখ্যালঘু হলেও আর্মেনীয়দের শিকড় আনাতোলিয়ায় অটোমান শাসনেরও বহু আগে থেকে বিস্তৃত। কারুশিল্পে তাদের দক্ষতার দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে।

বের্কসয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড বাজারের ভেতরে ও আশপাশে, এমনকি এর বাইরেও অলংকার তৈরির জগতে আর্মেনীয় কারিগরদের প্রভাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক দক্ষ কারিগরের কথাও তার মনে পড়ে।

চুনিটি এখন অভিজ্ঞ হাতেই রয়েছে। বের্কসয় ও সেভান ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করছেন। তাই বের্কসয়ের পেন্সিলে আঁকা নকশা কীভাবে বাস্তবে রূপ নেবে, তা দুজনেরই জানা। তাদের মধ্যে বেশি কথা হয় না। কয়েকটি শব্দ আর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ার মধ্যেই কাজের বোঝাপড়া হয়ে যায়।

সেভান বলেন, ‘এই পেশা ও এর সঙ্গে যুক্ত ওস্তাদ-শিক্ষানবিশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। কারণ, পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই এর মূল্য থাকে। উৎপাদনের এই কেন্দ্রস্থলে কাজ করার কারণে আমি নিজেকে দায়িত্বশীল মনে করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চারপাশে যত শপিং মলই গড়ে উঠুক না কেন, বাজারের নিয়ম এটাই।’

চুনির আংটিতে শেষ ছোঁয়া

গ্র্যান্ড বাজারের সবচেয়ে বড় ব্যবসা এখনো অলংকার। ২০১৭ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বাজারের ভেতরে থাকা ৫৩২টি অলংকার, স্বর্ণ ও গয়নার দোকানের কাজ সামলান ৫৭ জন দক্ষ কারিগর।

এমনই একজন ৬৬ বছর বয়সি হ্রান্ত জোরবাস। পাথর বসানোর বিশেষ কাজে তার দক্ষতা রয়েছে। এই কাজকে তুর্কি ভাষায় ‘মিহলামা’ বলা হয়। বের্কসয়ের নকশা অনুযায়ী সেভানের তৈরি আংটির কাঠামোয় চুনিটি বসানোর দায়িত্ব পড়েছে তার ওপর।

জোরবাস কাজ শুরুর আগে টেবিলের সঙ্গে লাগানো দুই পাশে ভাঁজ করা যায় এমন মোটা চামড়ার কাপড় নিজের কোলে বিছিয়ে নেন। এতে কাজের সময় মূল্যবান ধাতুর গুঁড়া বা অবশিষ্টাংশ পড়ে গেলেও তা সংগ্রহ করা যায়। এরপর নিজের চশমার ওপর আয়তাকার একটি আতশি কাচ বসিয়ে এক হাতে পালিশ করা আংটির কাঠামো পরীক্ষা করেন। অন্য হাতে চুনিটি ঘষে দেখেন।

সামনে বসে থাকা ৪২ বছর বয়সি ছেলে শান্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ও আধুনিক জুয়েলারি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে। কিন্তু ফাটল, ত্রুটি আর পাথর বসানোর দাগগুলো আমি নিজের চোখে দেখতে চাই।’

এ কাজে নির্ভুলতা জরুরি, আর তাতে সময়ও লাগে। তবে জোরবাসের এ নিয়ে অভিযোগ নেই। তার ছেলে একই পেশায় আগ্রহী হওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। আধুনিক প্রযুক্তির আগমন ছাড়াও নানা কারণে এই পেশা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

শান্ট বলেন, ‘মানুষের জীবনযাপন বদলেছে। তার সঙ্গে বদলেছে অলংকারের ব্যবহার এবং বিলাসপণ্য সম্পর্কে তাদের ধারণা। জটিল নকশার টাইপিন কিংবা নারীদের জ্যাকেটের পিন এখন আর ফ্যাশনে নেই। তবে হাতে তৈরি অলংকারের মূল্য বোঝেন, এমন মানুষ এখনো আছেন।’

সবশেষে জোরবাস আংটিটি হাতে তুলে নিয়ে তার দিকে তাকান। চুনিটি নিখুঁতভাবে বসেছে স্বর্ণের কাঠামোয়। দুই পাশে সারিবদ্ধ সরু ব্যাগেট হীরা পাথরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আংটিটি দেখে মুগ্ধ বের্কসয় বলেন, ‘কারখানায় তৈরি কোন আংটি এর সৌন্দর্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে? বাজারের আত্মা এখানেই।’

এএম

রকেট ছুটতেই আকাশে দেখা গেল ‘জেলিফিশ মেঘ’

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা

ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতার মাস

অস্থিসন্ধির ব্যথাকে অবহেলা নয়

জ্বর কমছে না কেন

ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

এআই চ্যাটবটের জন্য উইল করছেন অনেকে

ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২১৩

শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা: বাংলাদেশে চাইলেই কি করা যায়