আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ
মাথার সোনালি চুল আর ৭০০ কেজি ওজনের সুঠাম গড়ন নিয়ে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামক একটি মহিষ।
বিরল প্রজাতির এই অ্যালবিনো মহিষটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঢাকার উপকণ্ঠের এক খামারি প্রথম লক্ষ করেন, মহিষটির মাথার সোনালি চুলের গুচ্ছের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চুলের মিল রয়েছে। এর পরই দলে দলে মানুষ খামারে এটি দেখতে ভিড় করতে শুরু করে।
আসন্ন মুসলিম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য মহিষটি মূলত বিক্রি করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে সরকার এটিকে রাজধানীর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তীব্র গরম উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীরা মহিষটিকে দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করছে।
গত মঙ্গলবার দেখা যায়, দর্শনার্থীরা মহিষের বেষ্টনীর বেড়ার কাছে ভিড় করে মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন। কেউ কেউ আবার সন্তানদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন ভালো করে দেখার জন্য। চিড়িয়াখানার এক কর্মী মহিষটির চুল একপাশে আঁচড়ে দিচ্ছেন এবং এটিকে ঠান্ডা রাখতে পানি দিয়ে ধুয়ে দিচ্ছেন, পাশাপাশি সেখানে ফ্যানও চালানো হচ্ছে।
চিড়িয়াখানায় আসা ঢাকার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এর চোখ, চুলের স্টাইল এবং গায়ের রঙের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিল রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেমন একটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও জীবনধারা আছে, এই মহিষও ভাইরাল হওয়ার পর এখন প্রচুর মনোযোগ এবং বিশেষ যত্ন পেয়ে ঠিক তেমনই জীবন কাটাচ্ছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রদর্শনীতে শুরুতে মহিষটির খাঁচায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ছিল, যা পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত শনিবার চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে চাকরিচ্যুত করা হলেও এর কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি।
তবে প্রাণীর এমন নামকরণকে অনেকেই সুরুচিসম্মত মনে করছেন না। চিড়িয়াখানায় মহিষটি দেখতে আসা ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী একজন নেতার নাম একটি গৃহপালিত পশুকে দেওয়া নিশ্চিতভাবেই ভুল কাজ ছিল। এটি অসম্মানজনক বলে মনে হয়। যে খামারি এটি করেছেন, তিনি একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
কোরবানির ঈদের আগে মহিষটি বিক্রি করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পুলিশকে প্রাণীটিকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিলে কর্তৃপক্ষ ক্রেতার টাকা ফেরত দেয়।
যশোর থেকে চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে থেকেই আমি ফেসবুক পোস্টে দেখছিলাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি হতে যাচ্ছে। পরে শুনলাম কোরবানি না দিয়ে এটিকে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। তাই ভাবলাম চিড়িয়াখানায় এসে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিজের চোখে দেখে যাই।’
সূত্র: এপি
এএম