হোম > ফিচার

বিবি বিনতের মসজিদ

ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন

হাসান ইনাম

বিবি বিনতের মসজিদ

বাংলাবাজার থেকে বাসায় ফিরব। কিন্তু দুপুরের খাবারটাও খাওয়া দরকার। পুরান ঢাকায় দাঁড়িয়ে যেদিকেই তাকাই কেবল বিরিয়ানি আর বিরিয়ানি। এই গরমে বিরিয়ানির কথা চিন্তা করতেই কেমন যেন শরীরটা গুলিয়ে উঠল। খেতে হবে তেল কম আছে এমন খাবার। ঝরঝরে সাদা ভাত সঙ্গে একটু মুরগির গোশ—ঝোল থাকবে না, শুকনো শুকনো। মাথার ভেতর আসলে ঘুরছিল ঝুনুর পোলাওয়ের কথা। দেশি মোরগের ঝুনুর পোলাও। রিকশায় ওঠার পরপরই মনে হলো, এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুবর্ণ সুযোগ আমার সামনে। অনেক দিন ধরে বিনত বিবির মসজিদে যাব যাব করে যাওয়া হচ্ছে না। ঝুনুর পোলাও আর বিনত বিবির মসজিদ পাশাপাশি। দশ-বারো গজ দূরত্ব মাঝখানে। বিনত বিবির মসজিদ হচ্ছে ঢাকার প্রথম মসজিদ।

ঢাকার অধিকাংশ প্রাচীন মসজিদ তৈরি মোগল আমলে। মোগলদের দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী তেমনটাই সাক্ষী দেয়। ঢাকার সব থেকে প্রাচীন মসজিদের খোঁজে আমাদের মোগল আমল ছাড়িয়ে সুলতানি আমলে যেতে হবে। সুবেদার ইসলাম খাঁ ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানী ঘোষণা করেন ১৬১০ সালে। ইসলাম খানের আগমনের প্রায় ১৫০ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন চলে আসে—কে ছিল বিনত বিবি, আর কেনই বা তার নামে মসজিদ?

মসজিদে খোদিত শিলালিপি অনুসারে ৮৬১ হিজরি সালে, অর্থাৎ ১৪৫৭ মসজিদটি নির্মিত। তখন সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসন চলছে। মসজিদটি নির্মাণ করেন মূলত বিনত বিবির বাবা আরকান আলী। সে সময় পারস্য উপসাগরের আশেপাশের লোকজন প্রায়ই নদীপথে এ অঞ্চলে বাণিজ্যে আসতেন। পুরান ঢাকার এই এলাকা (নারিন্দা-ধোলাইখাল) দিয়ে তখন বয়ে যেত বুড়িগঙ্গার একটি শাখা, যা বুড়িগঙ্গা হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মিশত। আরাকান আলী নামক এক সওদাগর সে সময় এ এলাকায় বাণিজ্যের জন্য আসেন এবং এখানে বসবাস শুরু করেন। তিনিই নামাজ পড়ার সুবিধার্থে এখানে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

এখানে বসবাসকালে আরাকান আলীর মেয়ে বিনত বিবির আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাকে এই মসজিদের পাশেই সমাধিস্থ করা হয় এবং পরে আরাকান আলীর মৃত্যু হলে তাকেও এখানেই কবর দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিনত বিবির নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। বারবার সংস্কার এবং পরবর্তী সময়ে সংযোজনের ফলে বর্তমানে মসজিদের বাইরের প্রকৃত অবয়ব একেবারেই পাল্টে গেছে। তবে মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও এতে প্রাক-মোগল সালতানাতের বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ ভালোভাবেই লক্ষ করা যায়। বারবার পুরু আস্তরণের ফলে মসজিদের পোড়ামাটির অলংকরণ এখন আর দেখা যায় না। বাংলা ১৩৩৭ সালে এ মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয় এবং দ্বিতীয় গম্বুজটি স্থাপন করা হয়। প্রায় ২০০ বছর ধরে এলাকাবাসী একটি কমিটির মাধ্যমে এ মসজিদটির দেখাশোনা করে আসছেন। এলাকাবাসী ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে বর্তমানে পুরোনো ভবন ঠিক রেখে নতুন সাততলা মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমান অবস্থা

দুদিন আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখে আঁতকে উঠি। বিবি বিনতে মসজিদের পুরোনো কাঠামো মসজিদ কমিটির উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তৎপরতায় তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, মসজিদের সামনের অংশের চিনিটিকরির কাজ ভেঙে গিয়েছিল বলে রিপেয়ার করার উদ্দেশ্যে এই অংশটি তুলে ফেলা হয়েছিল। মসজিদের কোনো অংশ ভেঙে ফেলা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

মন্ত্রণালয়ের পোস্ট থেকে জানতে পারলাম, ‘বিনদ বিবি মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত নয়। তবে এটি রাজউকের হেরিটেজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত এবং ২২০০ বাড়ি মামলার আওতাভুক্ত একটি স্থাপনা।’ অবাক হলাম। শহর ঢাকার প্রথম মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ এতদিন পর্যন্ত সরকার নেয়নি, তাহলে এত বছরে মসজিদের মূল কাঠামো কতটা অক্ষত আছে? এর উত্তর খুঁজতে এক সকালে গেলাম নারিন্দার শরৎগুপ্ত লেনে।

মসজিদের সামনে গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়ল, মসজিদের পূর্বপাশের দেয়ালের কিছু অংশ থেকে চিনিটিকরির কাজ তুলে ফেলা হয়েছে। দেয়ালের গায়ে ছেনি-বাটালির গভীর ক্ষত। সামনের বারান্দায় ইট, বালি, বাঁশ আর ধুলার পুরু আস্তরণ। খোলা গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখতে পেলাম শিলালিপিটি—কালোর চারপাশে নীল আর লাল রঙের বর্ডার আঁকা। কিন্তু ধুলার কারণে মূল লেখাটাই পড়ার অযোগ্য হয়ে গেছে। সামনে ছয়টি দরজা। ভেতর থেকে বন্ধ। নতুন মসজিদের পাশ ঘুরে ভেতরে প্রবেশ করলাম। সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বোঝা যাচ্ছে, নিয়মিত সাফ-সাফাই করা হয়। কিন্তু পুরোনো মসজিদের গাম্ভীর্য অনুপস্থিত। সামনের দেয়াল কবে ভেঙে ফেলা হয়েছে, জানা যায় না। মসজিদের মেহরাবও এখন অস্তিত্বহীন। কোনটা মূল মসজিদের আর কোনটা বর্ধিত অংশ, সেটা এখন আলাদা করা যায় না।

এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা গেল, মসজিদ কমিটির একক সিদ্ধান্তে গ্রহণ করা সংস্কারের উদ্যোগে তারা খুশি নন। তারা চান, এমন কার্যক্রম বন্ধ হোক এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তবে ইতিহাস-ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে মসজিদের সঠিক সংস্কার হোক, সেটাও তারা চান।

নিয়োগ আটকাতে বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণের অভিযোগ, উত্তপ্ত ইবি

চার মাসের কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করল জাকসু

রাবির ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ক্যানসার: সংকট ও বাস্তবতা

হার্ট অ্যাটাক না হয়েও হৃদযন্ত্র ব্যর্থ হচ্ছে কেন?

সুস্থ ঘুমের ১২টি কৌশল

চবি সাংবাদিককে ‘পাহাড়ে নিয়ে মারার’ হুমকি ছাত্রদল নেতার

প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে পাটওয়ারীর ওপর হামলা: সাদিক কায়েম

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে: আলী রীয়াজ

ছুরি ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাই, নেপথ্যে ছাত্রদল কর্মী