হোম > ফিচার

কক্ষপথে ক্ষয় হচ্ছে নাসার টেলিস্কোপ

আশিকুর রহমান তালহা

গামা-রে বার্স্টসহ (জিআরবি) মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত নাসার বিখ্যাত মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘নীল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ (সুইফট) কক্ষপথ ক্ষয়ের (অরবিটাল ডিকে) প্রভাবে নিচে নামছে। সাম্প্রতিক তীব্র সৌর কার্যকলাপের কারণে পৃথিবীর ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল সামান্য প্রসারিত হয়েছে। ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের কারণে টেলিস্কোপটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে নিচু কক্ষপথে নেমে আসছে। নাসার বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষার্ধের মধ্যে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্ধশত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত মূল্যবান এই বৈজ্ঞানিক অবজারভেটরিটিকে রক্ষা করতে এবং এর গবেষণা কার্যক্রম সচল রাখতে নাসা প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলারের একটি বিশেষ কক্ষপথ-উন্নয়ন (অরবিট বুস্ট) মিশন শুরু করেছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য টেলিস্কোপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে আরো উচ্চতর ও নিরাপদ কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া। এই জটিল মহাকাশ মিশনটি পরিচালনার জন্য গত ৩ জুলাই প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিসের তৈরি বিশেষ মহাকাশযান ‘লিংক’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ধাপে ধাপে সুইফটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই মহাকাশযানটি তিনটি শক্তিশালী রোবোটিক হাত দ্বারা সুসজ্জিত।

নাসার মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিংক মহাকাশযানটি প্রায় এক মাসের মধ্যে সুইফট টেলিস্কোপের কাছাকাছি কক্ষপথে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে পৌঁছানোর পরই এটি সুইফটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে না। প্রথমে মহাকাশযানটির নিজস্ব সৌর প্যানেল ও অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপর শুরু হবে টেলিস্কোপটির সঙ্গে নিরাপদে সংযুক্ত হওয়ার (রেন্দেভু অ্যান্ড ক্যাপচার) জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। পরবর্তী কয়েক মাসে সুইফটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অবস্থান ও ঘূর্ণন বিশ্লেষণ এবং যান্ত্রিক বাহুর মাধ্যমে নিরাপদে সেটিকে ক্যাপচার করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রিত থ্রাস্ট ব্যবহার করে সুইফটের কক্ষপথ ধীরে ধীরে উঁচু করবে।

২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে দুই দশক ধরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় বিস্ফোরণ তথা ‘গামা-রে বার্স্ট’ পর্যবেক্ষণে অনন্য ভূমিকা রাখছে সুইফট। নাসা জানিয়েছে, টেলিস্কোপটি যদি বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে, তবে এর বেশির ভাগ অংশই ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে বিজ্ঞানীদের মূল উদ্বেগ টেলিস্কোপটির ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম ও গবেষণা সক্ষমতা বজায় রাখা। সুইফটের কার্যক্রম আরো কয়েক বছর সচল রাখার লক্ষ্যেই এই রোবোটিক কক্ষপথ-উন্নয়ন মিশন পরিচালনা করছে নাসা।

স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না: মন্ত্রী

'আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই'

দেয়াল যখন টিভিপর্দা

পুঁজিবাজারে নতুন ট্রেডিং প্রযুক্তি

বাসভাড়া-চায়ের বিল বাংলা কিউআরে

এজেন্টিক এআই ‘এলা ক্ল’

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

দেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়নের তাগিদ

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮