বিভিন্ন অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্রদলের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলার কথা। কিন্তু তার আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলো ছাত্রদলের প্যানেল। এ নির্বাচনে ২৫ পদের বিপরীতে লড়ছেন ১৭৯ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হল ও ১০টি ছাত্রী হলের ৩১৫টি পদে লড়ছেন ৪৬৭ জন প্রার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১০২, ছাত্রী ৫ হাজার ৮১৭।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী বেলা সাড়ে ৩টায় ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা নির্বাচনের শুরু থেকেই বলে আসছি, জামায়াতের কোম্পানি থেকে সরবরাহকৃত ব্যালট পেপার, ওএমআর মেশিন ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রশাসন আমাদের দাবির মুখে ভোট গণনার ওএমআর মেশিন বাতিল করলেও ব্যালট পেপার বাতিল করা হয় নাই। যেহেতু ওএমআর মেশিন বাতিল করা হয়েছে; তাহলে কোন কারণে ব্যালট পেপার ও সিসিটিভি ক্যামেরা রাখা হলো?
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জাল ভোট দিচ্ছে শিবিরের নেতাকর্মীরা। জাল ভোট দেওয়ার কোনো প্রমাণ পেয়েছেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জিএস প্রার্থী তানজিলা বলেন, শিবির তাদের সাংবাদিকদের মাধ্যমে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মব তৈরির চেষ্টা করছে। শিবিরের সাংবাদিক কারা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর পরে দিব। এই কথা বলে সংবাদ সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করেন ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, আজ সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই নানা অভিযোগ শোনা যায়। এক্ষেত্রে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হতে থাকে। এমনকি একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণও অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। তাছাড়া ভোটের আগের রাতেই অভিযোগ উঠে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রকে- যিনি ছাত্রদলের নেতা- ব্যালট বাক্স নেওয়ার সঙ্গে দেখা যায়। এছাড়া আজ ভোটগ্রহণকালে একজনকে আটকও করা হয়।