ডিজিটাল শিক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হুয়াওয়ে ও ইউনেস্কোর উদ্যোগে পরিচালিত একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স এরই মধ্যে বিশ্বের ১০ হাজারের বেশি সাক্ষরতা শিক্ষাবিদকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদরা ‘ইমপ্রুভিং দ্য ডিজিটাল কম্পিটেন্সেস অব লিটারেসি এডুকেটরস’ শীর্ষক বহুভাষিক কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।
জার্মানির হামবুর্গ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হুয়াওয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর লাইফলং লার্নিং (ইউআইএল), ইউনেস্কো গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর লিটারেসির সেক্রেটারিয়েটের মাধ্যমে, হুয়াওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কোর্সটি চালু করেছে। উদ্যোগটি ইউনেস্কো গ্লোবাল এডুকেশন কোয়ালিশনের অংশ।
হুয়াওয়ে বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাক্ষরতার ধারণা এখন শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল সরঞ্জাম কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো এবং অনলাইনে পাওয়া তথ্য সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করাও আধুনিক সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
১১টি স্বনির্ভর সেশনে সাজানো কোর্সটির বিশেষত্ব হলো, প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ডিজিটাল দক্ষতাকে যুক্ত করার সুযোগ পান। কোর্সে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য ও গণমাধ্যম-সাক্ষরতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল তথ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মরক্কোর শিক্ষাবিদ নাইমা ইঞ্চতোর অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, কোর্সের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও প্রযুক্তির সাহায্যে শেখানোর বাস্তব উপায় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও অডিও ক্লিপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন দেওয়ার একটি গ্রুপ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
মেক্সিকোর সাক্ষরতা শিক্ষাবিদ লরা প্যাট্রিসিয়া গারজা রদ্রিগেজও কোর্সটির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও তথ্য-সাক্ষরতার গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
হুয়াওয়ের মতে, ডিজিটাল দক্ষতা শুধু শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ায় না; এটি শিক্ষার্থীদের আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণ, প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাবিদকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোও কোর্সটি সম্প্রসারণে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
হুয়াওয়ে জানিয়েছে, ২০১৯ সালে তারা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগ শুরু করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১ হাজার ৭৯০টির বেশি স্কুল এবং ৭ লাখের বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বেকার তরুণ, প্রবীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে হুয়াওয়ে ও ইউনেস্কো যৌথভাবে ‘টেকনোলজি-এনেবলড ওপেন স্কুলস ফর অল’ প্রকল্পও পরিচালনা করছে।
কোর্সটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। আরবি, ইংরেজি, ফরাসি ও স্প্যানিশ—এই চার ভাষায় বিশ্বের সাক্ষরতা শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বিনামূল্যে এতে অংশ নিতে পারবেন।