কর্মজীবনে সফল হতে শুধু দায়িত্ব পালন করলেই হয় না, জানতে হয় কাজের ধরন, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ এবং নিজের দক্ষতা প্রকাশের কৌশল। অফিসে কিছু অভ্যাস যেমন আপনাকে এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি কিছু আচরণ আপনার পেশাগত উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরছি, যেগুলো অফিসে এড়িয়ে চলা উচিত।
বস কোনো কাজ দিলে শুধু শুনেই চলে আসবেন না। কাজটি ভালোভাবে বুঝে নিন। কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে এবং কখন জমা দিতে হবে, তা জেনে নিন। প্রয়োজনে প্রশ্ন করুন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমবে এবং কাজের মান বাড়বে।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবেন না বলে মনে হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। আগেই বসকে জানান এবং প্রয়োজনীয় সময় চান। তবে শুধু সময় চাইলেই হবে না, কেন অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন, তা যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে। আবেগ নয়, বাস্তবতা ও যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরুন।
বসের কোনো সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু তা নিয়ে সহকর্মীদের কাছে সমালোচনা করে বেড়ানো পেশাদার আচরণ নয়। মনে রাখবেন, আজ যে কাজটি আপনাকে দেওয়া হয়েছে, তার গুরুত্ব বা বৃহত্তর উদ্দেশ্য বুঝতে আপনার সময় লাগতে পারে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে তা যথাযথভাবে বসের কাছে তুলে ধরুন।
মনে রাখবেন, আপনি সক্ষম। টিমের অন্য কাউকে না দিয়ে আপনাকে একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এর অর্থ হতে পারে আপনার ওপর আস্থা রাখা হয়েছে। সেই আস্থার মর্যাদা দিন। কাজের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করুন। দায়িত্বকে বোঝা না ভেবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবে দেখুন।
সেলস টিমের কেউ ভুল করতে পারেন কিংবা রিপোর্ট দিতে দেরি হতে পারেন। তাই বলে তাকে গালমন্দ করা বা অপমান করা কোনো সমাধান নয়। বরং ভুলের কারণ বুঝুন, সমস্যাটি ব্যাখ্যা করুন এবং কীভাবে তা এড়ানো যায়, সে বিষয়ে সহযোগিতা করুন। একজন ভালো পেশাজীবী শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেন না, সমাধানের পথও দেখান।
শুধু দায়িত্ব পালন করে কাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। নিজের কাজের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন কিছু অন্তর্দৃষ্টি বের করার চেষ্টা করুন, যা বসের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। আপনার বিশ্লেষণ যদি ব্যবসার সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে, খরচ কমাতে সাহায্য করে কিংবা বিক্রি বাড়ানোর নতুন পথ দেখায়, তাহলে আপনার কাজের মূল্য বাড়বে। এভাবেই আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি অবদান রাখতে পারেন।