হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

ক্যারিয়ার নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

জান্নাতুল মাওয়া (রিফাত)

প্রতীকী ছবি

বর্তমান সময়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রত্যাশিত চাকরি পাওয়া যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা একজন শিক্ষার্থীকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বা পুঁথিগত জ্ঞানের ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হয় বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তবমুখী দক্ষতা। আবার শুধু দক্ষতা থাকলেই চলে না; প্রয়োজন যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতাও। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বহুমুখী দক্ষতার সমন্বয়ই একজন মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। ক্যারিয়ার জীবনের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজার নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন জান্নাতুল মাওয়া (রিফাত)

আহনাফ আসেফ মাহিয়ান

এআইয়ের যুগে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

আহনাফ আসেফ মাহিয়ান

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম অভাবনীয় উদ্ভাবন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এটি বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের নিদর্শন হলেও কোনো অলীক কল্পনা নয়; বরং বর্তমান সময়ের বাস্তবতা। দৈনন্দিন লেখালেখি থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইন, কোডিং, এমনকি জটিল প্রকৌশলগত কাজও এখন অনায়াসে করে ফেলছে এই প্রযুক্তি। যে কাজ সম্পন্ন করতে আগে একটি পুরো দলের মাসের পর মাস সময় লাগত, তা এখন মুহূর্তেই করে দিচ্ছে বিভিন্ন অ্যালগরিদম। এতে যেমন মানুষের কাজের গতি ও সুযোগ বাড়ছে, তেমনি ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে তৈরি হচ্ছে গভীর অনিশ্চয়তা। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের ক্ষেত্রেও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এছাড়া বড় বড় ডেটা সেন্টার পরিচালনার কারণে পরিবেশদূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে প্রতিটি প্রযুক্তিরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। প্রযুক্তি মানুষের কর্মসংস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় না; বরং কাজের ধরন ও ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটায়। পুরোনো কিছু কাজ বিলুপ্ত হলেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাই এআইয়ের যুগে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারলে কর্মবাজারে একজন দক্ষ ব্যক্তির চাহিদা ও মূল্যায়ন এখনো অনেক বেশি

উম্মে সালমা

অভিজ্ঞ পেশাজীবী নাকি তরুণ প্রজন্মের জেন-জি

উম্মে সালমা

অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ

ক্যারিয়ার শব্দটি ছোট হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা ও নিজের পরিচয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে দুই প্রজন্মের মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়ে পারস্পরিক শেখার সুযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা দিতে পারেন বাস্তব জ্ঞান ও কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, জেন-জি নিয়ে আসতে পারে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নতুন চিন্তাধারা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।

অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা কর্মক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণের দিক থেকেও তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারেন। তবে শুধু পুরোনো অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করলে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও নতুন কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, জেন-জি প্রচলিত ক্যারিয়ারের ধারণার বাইরে ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা হওয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে দেখছে। তারা কর্মজীবনে মানসিক স্বস্তি, কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিতে চায়। তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি, দ্রুত সাফল্য পাওয়ার প্রত্যাশা, ধৈর্যের অভাব কিংবা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে। ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ তাই শুধু একটি প্রজন্মের ওপর নির্ভরশীল নয়।

সুমাইয়া আক্তার সুইটি

একবিংশ শতাব্দীতে সার্টিফিকেটের সীমাবদ্ধতা

সুমাইয়া আক্তার সুইটি

গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

একবিংশ শতাব্দীতে ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে প্রথাগত শিক্ষাগত সনদের গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি হয়েছে। প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা ও সনদনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সাধারণত মুখস্থবিদ্যা এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মজগতে শুধু কাগুজে সনদের চেয়ে প্রায়োগিক দক্ষতাকে বেশি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ সংস্থাগুলোর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, নিয়োগকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে আসা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই সরাসরি বাস্তব প্রকল্পে কাজ করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কর্মীদের পেছনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণেও একবার অর্জিত সনদের ওপর নির্ভর করে পুরো পেশাজীবন পার করে দেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই একবিংশ শতাব্দীতে শুধু একটি সার্টিফিকেট অর্জন করেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। সার্টিফিকেট হয়তো চাকরির প্রাথমিক ধাপে প্রবেশের একটি চাবিকাঠি হতে পারে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা ও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার মূল শক্তি হলো জীবনব্যাপী শেখার মানসিকতা, প্রায়োগিক দক্ষতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা।

তানভীর রহমান

দক্ষতাই চাকরিপ্রার্থীর মূল সহায়ক

তানভীর রহমান

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ

একজন চাকরিপ্রার্থীর সবচেয়ে মূল্যবান যোগ্যতাগুলোর একটি হলো তার বাস্তবমুখী দক্ষতা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে শুধু একাডেমিক সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া কঠিন। কারণ, একাডেমিক সার্টিফিকেট একজন ব্যক্তির তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রমাণ দিলেও দক্ষতা প্রকাশ করে তার সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ এআই সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করলেও বাস্তবে এআই ব্যবহার করে কোনো কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে সেই জ্ঞানের কার্যকর মূল্য সীমিত থেকে যায়। একাডেমিক সার্টিফিকেট চাকরির আবেদনের যোগ্যতা তৈরি করতে সহায়তা করে, আর বাস্তব দক্ষতা চাকরি পাওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে সাহায্য করে।

তাই শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জনের পেছনে ছুটলে চলবে না। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগদক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার সমন্বয়ই একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখতে পারে।

‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ইসতাক আহমেদ

অফিসে যেসব কাজ এড়িয়ে চলবেন

টেসলার রোডস্টারের আন্ডারবডি প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের তারেক

অক্সফোর্ডের পূর্ণ বৃত্তি পেলেন নাজিফা

বিদেশি যেসব ভাষা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

মাদরাসা থেকে ঢাবির আইন বিভাগে, অতঃপর সিভিল জজ

মেডিকেল ছেড়ে প্রথম বিজেএসেই পঞ্চম শাওলিন

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

কাজের মধ্যেই তৈরি হয় ক্যারিয়ার

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাকিরুলের হুইলচেয়ার