বায়ুদূষণ সম্পর্কে মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিদ্যমান আইন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন, দূষণের উৎসভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। বায়ুর মানের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে দূষণের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও কার্যকর যোগাযোগ জোরদার করতে হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির আয়োজিত ‘পরিষ্কার বায়ু, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- সিএপিএসের পরিচালক প্রফেসর ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ইয়ুথ মোবিলাইজেশন অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন মো. মাসুদ পারভেজ অভি, স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ব্যবহার আরও শক্তিশালী করতে হবে। বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেই তথ্যকে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা জরুরি। জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু পরামর্শের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নীতি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তরুণদের অর্থবহভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকে নীতিগত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করলে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ আরও সহজ হবে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইন, নীতি ও পরিকল্পনা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, তরুণদের শুধু নীতিগত আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেই হবে না; বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে ‘ইয়ুথ ডিমান্ড ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক যুবদের ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যমান আইন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও দায়িত্বের স্পষ্টতা নিশ্চিত করা, সহজ ও কার্যকর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবেশগত ছাড়পত্রের পর নিয়মিত পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা, দূষণকারী শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, দূষণের হটস্পটগুলোতে নিয়মিত ও উৎসভিত্তিক পরিবীক্ষণ করা, বায়ুর মান ও পরিবেশগত তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করা, যানবাহন, নির্মাণ ও রাস্তার ধুলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানোসহ স্থানীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ করা, স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ বৃদ্ধি করা, জনসচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণকে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করা, যুব ও নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ব্রিথ কোয়ালিশনকে নীতি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশীদার করা।