অক্টোবরজুড়ে ভ্যাপসা গরম থেকে পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না। মাসের প্রথমার্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পাশাপাশি গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এর মধ্যে মধ্য অক্টোবর নাগাদ বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় মাসের শেষভাগে দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির অক্টোবর-ডিসেম্বরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে ৩ থেকে ৫টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমলেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
সেপ্টেম্বরের আবহাওয়ার পরিসংখ্যানেও তাপমাত্রার বাড়তি প্রবণতা দেখা গেছে। ওই মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় সিলেটে ২৮ সেপ্টেম্বর। একই মাসে দেশের মোট বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭.৯ শতাংশ কম ছিল।
অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশ ও রোদ-মেঘের খেলা থাকতে পারে। চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিহীন সময়ে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১১ থেকে ২০ অক্টোবরের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে ১৪ অক্টোবর নাগাদ, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৯ ও ২০ অক্টোবরের দিকে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। মাসের শেষ ১০ দিনে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় এল নিনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ৩ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে বছরের শেষদিকে খুব শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। তবে কোনো অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব কতটা হবে, তা শুধু এর শক্তির ওপর নির্ভর করে না; অন্যান্য সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রাখে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও ও নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে পারে। ডিসেম্বর মাসে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বেড়েছে। এতে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট ছিল। বৃহস্পতিবার সারাদেশের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ ছাড়া আর কোথাও মোটেও বৃষ্টি হয়নি। এ দিন সিলেটে সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সারাদেশের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি এবং রাজধানীতে ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার সারাদেশের সর্বোচ্চ সিলেটে ৩৭ দশমিক ৬ এবং রাজধানীতে ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।