সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শূল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
বুধবার জাতীয় সংসদে গাজীপুর–৫ আসনের একেএম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারসমূহে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাজার সম্প্রসারণ এবং শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড অ্যাগ্র্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে; মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে জিসিসি, মারকুসুর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
চট্টগ্রাম–১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে করার কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবাতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সকল পক্ষের সাথে আলোচনা চলমান। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরাকান আর্মি প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান, যা ইতোপূর্বে ঘটেনি।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরো ৪টি প্রকল্প চলমান আছে। বিদেশস্থ বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলির ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকার বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
এমএমআর