সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার ১৮ কোটি মানুষের প্রতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাব।
আজ শুক্রবার ত্রি-স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা, জাতিসংঘ বৈশাখ ডে-২০২৬ এবং বৌদ্ধ ধর্ম ও বিশ্ব শান্তি শীর্ষক সিম্পোজিয়াম রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার বিশুদ্ধানন্দ-শুদ্ধানন্দ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকলে মিলেই আমরা দেশটাকে গড়তে চাই। রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সকলে মিলে সকল অন্যায় ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। তিনি বলেন, বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হচ্ছে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী, করুণা ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করা। অহিংসাবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের বাণী অনুসরণ করলে বিশ্ব থেকে যুদ্ধ, সংঘাত ও অশান্তি দূর করা সম্ভব।
বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বুদ্ধের আদর্শ শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব যেখানে নানা সংকটে জর্জরিত, সেখানে বুদ্ধের ‘সব্বে সত্তা ভবন্তু সুখিতা’ (সকল প্রাণী সুখী হোক) বাণী অনুসরণ করে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।
তিনি বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, সরকার সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, খাদ্য, বই-পুস্তক প্রদান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য নানা সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দেশের ৫২ শতাংশ নারী ও ৩.৪ শতাংশ শিশুকে পিছনে ফেলে রেখে এ দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী ও শিশুর কল্যাণে আমার মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শ্রী সদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকান দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ কেভিন স্টুয়ার্ট র্যান্ডাল, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মি. ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ে, চীনের কালচারাল সেক্রেটারি মি. লি শাওপেং এবং ইউএস এম্বাসির পলিটিক্যাল অফিসার মি. বার্নার।
এসআর