হোম > জাতীয়

দেড় দশকে রেকর্ড বৃষ্টি, ডুবেছে ঢাকা

সরদার আনিছ

আকাশজুড়ে মেঘের ঘূর্ণিপাক আর অবিরাম বর্ষণে গত দেড় দশকের এক অচেনা রূপ দেখল তিলোত্তমা নগরী ঢাকা। রোববার ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে রেকর্ড পরিমাণ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে চলতি মৌসুমের তো বটেই, গত ১৭ বছরের ইতিহাসে জুলাই মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির এই নজির দেখল নগরবাসী।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৯ সালে রাজধানীতে ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হলেও জুলাই মাসের হিসেবে এমন তীব্রতার বর্ষণ দেড় দশকে আর দেখা মেলেনি বললেই চলে।

রোববার আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক ও খোন্দকার হাফিজুর রহমানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হয়েছে।

সংস্থাটির পরিমাপ অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ‘ভারী’ এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে ‘অতি ভারী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় অতি ভারী বর্ষণই আঘাত হেনেছে। কেবল রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় সয়লাব হয়ে যায় রাজধানীর অলিগলি।

শুধু রাজধানী একাই নয়, প্রকৃতির এই ঝাপটা এসে লেগেছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেকর্ড করা বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৫২ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ১১০ মিলিমিটার এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও এই ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবণতা আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করছেন বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং ‘এল নিনো’র প্রভাবকে। সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানান, এবারের বর্ষার চিরচেনা রূপটি আর নেই। অতীতে যেখানে বর্ষা মানেই ছিল স্নিগ্ধ, থেমে থেমে ঝরে পড়া শ্রাবণের ধারা, সেখানে আজ অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ও পুঞ্জীভূত অতিবৃষ্টির তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক বৃষ্টিপাত হলেও জুন মাসজুড়ে দেখা মিলেছিল ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টির। কিন্তু জুলাইয়ের শুরুতেই প্রকৃতির এই রূপ পাল্টানো স্পষ্ট করে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা কতটা গভীরভাবে আমাদের দোরগোড়ায় এসে কড়া নাড়ছে।

একসময় বর্ষার এই ঝিরিঝিরি বা মুখরিত দিনগুলো গ্রামীণ জনপদে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাত, ফসলের মাঠে আনত সজীবতার পরশ। কিন্তু ইট-পাথরের কৃত্রিম কংক্রিটের এই রাজধানীতে প্রবল অতিবৃষ্টি মানেই আজ এক দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক ও জনদুর্ভোগের নাম। পুরান ঢাকার প্রবীণ বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আক্ষেপের সুরে বলেন, বৃষ্টির সুর এককালে মন জুড়াত, আজ অল্পতেই কোমরপানিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট আর থমকে থাকা যান্ত্রিক জীবন আমাদের কেবল হাঁপিয়ে তোলে।

প্রকৃতির এমন রুদ্ররোষ আর উষ্ণতার খামখেয়ালিপনা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দেশবাসী। জলবায়ুর পরিবর্তনের এই নির্মম বাস্তবতায় নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি হয়ে উঠেছে।

সাত জেলায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি, মৃত্যু ৫১

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে গণপূর্তমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সংসদ চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জমির উদ্দিন সরকার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

পানিবন্দি মানুষের পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

শেখ পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন, তিন মাস পর পর জানাতে হবে: শফিকুল

একসঙ্গে ৫৮ বিচারককে বদলি, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি থেকে এক চুলও নড়ব না, বললেন ব্যারিস্টার আরমান

জুলাই আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে

এক বছরে হাসিনার খাবার খরচ ৩৫ কোটি টাকা