হোম > জাতীয়

অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি সিলেটে

ইমদাদ হোসাইন

দেশের কর্মসংস্থানের সিংহভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক। সরকারি হিসাবে এটিকে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হিসাবে ধরা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৮৪ ভাগ অনানুষ্ঠানিক, মাত্র ১৬ ভাগ আনুষ্ঠানিক। অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বিভাগীয় হিসাবে সিলেটের কর্মসংস্থানে ৯২ ভাগের বেশি অনানুষ্ঠানিক খাতে।

সিলেট অঞ্চলে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বেশি হওয়ার অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সিলেট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্সনির্ভর অঞ্চল। পরিবারের একজন বা একাধিক সদস্য যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে কাজ করেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি অনেকটাই রেমিট্যান্সনির্ভর; উৎপাদন বা শিল্পের ওপর নয়। এ টাকার প্রবাহ স্থানীয়ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, জমি কেনাবেচা, নির্মাণ ও ভোগব্যয়ে ব্যবহৃত হয় কিন্তু নতুন শিল্প বা ফরমাল চাকরি তৈরি করে না। অর্থাৎ অর্থ সঞ্চালন হচ্ছে কিন্তু উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সিলেটের অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ৯২ দশমিক ২৫ শতাংশ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ময়মনসিংহে ৮৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, খুলনায় ৮৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৮১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং বরিশালে এ হার সবচেয়ে কম ৮১ দশমিক ১ শতাংশ।

জানা গেছে, সিলেট শহর ও উপজেলাগুলোয় প্রচুর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, দোকানি, ট্রাভেল এজেন্সি, নির্মাণ শ্রমিক ও রাইডার রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নিজের উদ্যোগে বা পরিবারভিত্তিক কাজ করেন, নিবন্ধিত কোম্পানি বা কারখানায় নয়। এ কারণে কর্মসংস্থান কাঠামো ফরমাল নয়, যদিও আয় তুলনামূলক ভালো।

বিদেশে ব্যাপক শ্রম অভিবাসনের ফলে সিলেটে তরুণদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে চাকরির আগ্রহ কম। রেমিট্যান্সের টাকার বড় অংশ রিয়েল এস্টেট, হাউজিং, দোকান, বিলাসী ব্যয় ও বিদেশ ভ্রমণে খরচ হয়। এ বিনিয়োগ উৎপাদনমুখী নয়, তাই নতুন ফরমাল চাকরি তৈরি হয় না। ফলে কর্মসংস্থান বাড়লেও তা ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক’ থেকে যায়।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান অগ্রগণ্য। জাতীয় পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশ, যেখানে নারীরা অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে রয়েছে ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৭৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। বিশেষ করে অঞ্চলভেদে ২০২৪ সালে শহরাঞ্চলে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের অবদান ছিল এক কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার (৭৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ), যেখানে গ্রাম এলাকায় এটি ছিল চার কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার (৮৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ)।

অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান জাতীয় পর্যায়ে পাওয়া যায় ১৬ শতাংশ, যার মধ্যে ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ নারী এবং ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে দেশের মোট ছয় কোটি ৯১ লাখ কর্মরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিযুক্ত। বিভিন্ন বয়স বিভাজনে দেখা যায়, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের মধ্যে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, ৫৯ দশমিক ২৯ শতাংশের বয়স ৩০ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে এবং মাত্র ৪ দশমিক ২৮ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বা তদূর্ধ্ব।

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির আত্মপ্রকাশ

একদিন পিছিয়ে শনিবার শুরু বায়তুল মুকাররমের মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মৃত্যুতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শোক

মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়াল সরকার

মতভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য: স্পিকার

মানিব্যাগ ছিনিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, মাদরাসা ছাত্রের হাত-পা বিচ্ছিন্ন

সরকারের ঘোষণার আগেই কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা, রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিলগালা

অদৃশ্য এক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের সময় গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি

বিরোধী দলকে সভাপতি না দিয়েই সব সংসদীয় কমিটি গঠন

সংসদে যে কারণে জামায়াতকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী