উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হলেও ভাদ্রের প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দেশজুড়ে তীব্র ভ্যাপসা গরমের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এরপর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হলেও এর পরিমাণ বেশ কম। এ ছাড়া বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এই ক্ষণিকের বৃষ্টি তাপমাত্রা কমাতে পারছে না। ফলে ভাদ্রের রোদে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নরসিংদীতে। অন্যদিকে, এদিন শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ৩৬.৬ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
পরবর্তী দিনগুলোতে আবহাওয়ার অবস্থা ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আগামী শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। বিশেষ করে ১৪ সেপ্টেম্বর রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে সারা দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।