হোম > জাতীয়

অর্থ নয়ছয়ের সুযোগ কম আগ্রহ নেই কর্মকর্তাদের

সরকারি প্রণোদনায় ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ

গাজী শাহনেওয়াজ

সরকারি প্রণোদনায় ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণে কর্মকর্তাদের সাড়া কম মিলছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অধীনে কর্মরত মাঠ কর্মকর্তাদের আচরণে এমনটাই ফুটে উঠেছে। ডিএইর তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র হিমাগারের তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়। লক্ষ্য হিমাগারের সর্বশেষ অগ্রগতি জানা এবং তার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক কর্মকর্তাকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ, রাজশাহী ও ঝিনাইদহের ডিইএর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আর এভাবেই চলছে কৃষকের আপৎকালীন কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণের কাজ। এতে এসব হিমাগারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৫ জেলার ৩২টি ক্ষুদ্র হিমাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া এ কর্মসূচিগুলোর কাজের মাধ্যমে অর্থ নয়ছয় করার সুযোগ কম রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তারা এ কাজের প্রতি আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। ডিইএর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমার দেশের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের বেশিরভাগ কর্মকর্তার ঝোঁক লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি পৃথক একটি প্রকল্পের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮০টি ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। আগামী অক্টোবরে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের যে অগ্রগতি, তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত রোববার পর্যন্ত ১৪৭টি হিমাগার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। নানা মহলে আলোচনা রয়েছে, প্রণোদনার আওতায় নির্মিত স্থাপনার তুলনায় প্রকল্পভিত্তিক কাজের প্রতি কৃষি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার আগ্রহ বেশি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

অন্যদিকে সরকারি প্রণোদনার অর্থায়নে নির্মাণাধীন ক্ষুদ্র হিমাগারগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাজের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। মোট হিমাগারের ৩০ শতাংশেরও কম নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে আর ২০টির বেশি হিমাগারের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। যেসব জেলায় হিমাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছেÑরাজবাড়ী ও চট্টগ্রামে দুটি করে এবং যশোর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও দিনাজপুরে একটি করে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী পৌঁছলেও নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। নাটোর ও শরীয়তপুরে কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন। ফেনীতে এখনো নির্মাণসামগ্রী পৌঁছেনি বলে জানা গেছে আর জামালপুরে হিমাগার চালুর জন্য বিদ্যুৎসংযোগের কাজ বাকি রয়েছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হলে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উইংয়ের উপপরিচালক (মনিটরিং) ড. আবু জাফর আল মুনছুর আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রণোদনার অধীন বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। যেটির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, সেখানে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গিয়ে উদ্বোধন করে আসছেন। এটি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি তদারকি করায় তাদের ভূমিকা কম। তিনি বলেন, কৃষকের আবাদি জমির কৃষিপণ্য এসব হিমগারের রাখা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৫টি জেলায় ৩২টি ‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। শাকসবজি ও ফলমূলের মতো পচনশীল কৃষিপণ্য ভরা মৌসুমে অপচয় রোধ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব ক্ষুদ্র হিমাগারে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কৃষিপণ্য ধরন ভেদে প্রায় ৪৫ দিন পর্যন্ত তাজা ও গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ভরা মৌসুমে উৎপাদন বেশি হওয়ায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার পরিবর্তে কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে ভালো দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফসলপরবর্তী অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকের দরকষাকষির সক্ষমতাও বাড়বে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎচালিত এসব হিমাগারে আধুনিক স্মার্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা থাকবে, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমই

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত

বুধবার যেসব এলাকায় ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ৬ দিন

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে

রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে বাংলাদেশে

রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ আজ

মামলা দেন আমার নামে, নিজে সারেন্ডার করে জেলে যাব: নাহিদকে ইশরাক

রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী

গণহত্যায় দণ্ডিত ইনুকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব