টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ১০ দিন পরও মৃত্যুর রহস্য কাটেনি। সাঁতার জানা একজন তরুণ কীভাবে নদীতে ডুবে মারা গেলেন, মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
ফরেনসিক, ভিসেরা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার রিমান্ডে দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মামলার তদন্ত করছে নৌপুলিশ।
এদিকে দীপের তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রিমান্ডে ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও ঘোরাফেরার তথ্য দিয়েছেন দীপ। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলে দাবি পুলিশের। এর আগে দুই দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার দিশাকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য দীপের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত সংস্থা নৌপুলিশের মিডিয়া শাখার পুলিশ সুপার আসমা আক্তার আমার দেশকে বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখনই কনক্রিট কিছু বলা সম্ভব নয়।
জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সময় পাকস্থলি, কিডনি, রক্ত ও ভিসেরার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো পাশাপাশি মিলিয়ে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে তুরাগে ডুবে তার মৃত্যু হলো, তা নিয়ে পরিবারের পাশাপাশি তদন্তকারীদেরও প্রশ্ন রয়েছে। পানিতে পড়ার আগে তার শরীরে কোনো আঘাত করা হয়েছিল কি না, তিনি অচেতন ছিলেন কি না কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তারা মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান। এরপর দিশাকে সঙ্গে নিয়ে সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস ও নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। রাতের পরবর্তী সময়ে তাহসিফ ও দীপের টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার তথ্যও তদন্তে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং দুই আসামির বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, কোথায় কী ঘটেছিল এবং নদীতে যাওয়ার পেছনে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এমই