রাজধানীসহ সারা দেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশাসহ স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন সার্ভিসের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। একই সঙ্গে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পার্কিং ব্যবস্থা ও চার্জিং স্টেশনসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানানো হয়।
এসময় সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে যানজট, দুর্ঘটনা ও লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু কেন এত মানুষ রিকশা, ইজিবাইক চালান এবং কেন এত যাত্রী এসব বাহন ব্যবহার করে সেসব কারণ কেউ বলছেন না।
তিনি বলেন, তীব্র বেকারত্ব যেমন রিকশা চালানোর মতো কাজে মানুষকে টেনে আনছে, তেমনি সহজ ও সস্তা আর কোনো বাহন না থাকায় সাধারণ মানুষ এসব বাহন ব্যবহার করছেন। আর লোডশেডিং সবচেয়ে কম থাকে রাত ১০টার পর এবং ব্যাটারিচালিত বাহনগুলো তখন চার্জ দেওয়া হয়। ফলে অপপ্রচার নয় সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে তাদের দাবিগুলো হলো- প্রশিক্ষণ-নিবন্ধন-রুট পারমিটের আওতায় নিয়ে এসে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্পকে রক্ষা করা; স্থানীয় উৎপাদকদের সরকারি অনুমোদিত ই-রিকশার ডিজাইনে যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনের অনুমতি এবং মেকানিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উৎপাদন ও বিপণনে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে সুবিধা না দেওয়া।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি প্রতিস্থাপনে সরকারি ভর্তুকি; সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার; দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত যানবাহন অনুমোদিত ডিজাইনে পরিবর্তনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া; যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি মহাসড়কে স্বল্পগতির ও লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তী, নেতৃবৃন্দ ও অটোরিকশা চালকরা প্রমুখ।