আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধসহ সরকারকে ৯ দফা সুপারিশ করেছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, অসচেতনতা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ঈদযাত্রায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ইয়ুথ ফোরামের দেওয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং ঈদে মোটরযানের নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োগমূলক নির্দেশিকা জারি করা।
এছাড়া সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং ঈদযাত্রায় তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পুসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও ভটভটির চলাচল বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে গাড়ি চালানো রোধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারবান্ধব করা এবং জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আলোকে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারাদেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হন। এর আগে ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে।
সংগঠনটির মতে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সড়কে প্রাণহানি কমবে এবং মানুষ ঈদের মতো উৎসব নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবে।