গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের নিয়ে ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’ নামে নতুন একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে ‘ফেস দ্য পিপল’-এর সম্পাদক সাইফুর সাগরকে আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুলকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।
নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির প্রকাশক লুৎফর রহমান বাদল, দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি, এখন টিভির মাহমুদ রাকিব, চ্যানেল আইয়ের আকতার হাবীব, দ্য নিউ নেশনের শিমুল পারভেজ, ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির রিয়াজুর রহমান রিয়াজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের ইসরাফিল ফরাজী।
যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের আবদুর রহিম, বাংলাভিশনের কেফায়েত শাকিল, ভিওডি বাংলার নুরুল ইসলাম খান মামুন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক একেএম রেজাউল করিম, অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের আশ্রাফ ফারুকী, দৈনিক বর্তমানের নিজাম উদ্দিন দরবেশ এবং দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের রহমতুল্লাহ।
কমিটির সদস্যরা হলেন অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান, এটিএন বাংলার আল ইমরান, এশিয়া পোস্টের অন্তু মোজাহিদ, দৈনিক যায়যায়দিনের জালাল আহমেদ, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রাকেশ রহমান, সোনালী নিউজের সাজ্জাদ হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া হেড ফখরুল ইসলাম, আরটিএনএনের আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক মানবজমিনের মিফতাহুল জান্নাত, বাংলানিউজের ফারজানা ববি, বাংলাদেশ টাইমসের তাসবির ইকবাল, নতুন আশার মোর্শেদুল আলম, দেশ রূপান্তরের কেফায়েত রুমি, দেশ টিভির মেহেদী হাসান বাপ্পি, চ্যানেল আইয়ের রাশেদ মানিক, বাংলাভিশনের ওমর ফারুক, স্টার নিউজের এইচএম ইমরান হোসেন এবং আজাদ বাণীর মেহরাজ রাব্বি।
‘সময়য়ের প্রয়োজনে জেজেইউ তৈরি হয়েছে’
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে। জুলাইপন্থী সব সাংবাদিকের জন্য এটি উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।’
সদস্য সচিব আহসান কামরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যম সঠিক ভূমিকা রাখতে না পারলেও এখনো গণমাধ্যমের কাছে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই। তবে জুলাই গণহত্যাকারীদের পক্ষে যেন কেউ ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করব।’
আত্মসমালোচনার আহ্বান উপাচার্যের
অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অন্যদের সমালোচনা করার আগে নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। আগের সময়ের মতো যেন একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, কাউকে আহত করে এমন কথার পরিবর্তে সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া গণঅভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না। সাংবাদিকদের একটি অংশ হলেও আন্দোলনে তাদের সমর্থন ছিল। দলান্ধতার পরিবর্তে সাংবাদিকদের দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘সরকার পরিবর্তন হলে যেন সাংবাদিকদের পালাতে না হয়’
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার ছবি সাংবাদিকরাই ঝুলিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তন হলে সাংবাদিকদের পালিয়ে যেতে না হয়।
জেজেইউর যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ও অনেক সাংবাদিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তারা তখন যেমন বঞ্চিত ছিলেন, এখনো বঞ্চিত রয়েছেন। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জেজেইউ কাজ করে যাবে।
‘নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই’
জেজেইউর সদস্য ও অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এটি এমন একটি উদ্যোগ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘এ সংগঠনের অঙ্গীকার হলো হামলা, মামলা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা। আমাদের অবস্থান সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে, পেশাগত মর্যাদার পক্ষে এবং জনগণের জানার অধিকারের পক্ষে।’
অনুষ্ঠানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামানও বক্তব্য দেন। দেরিতে হলেও এ ধরনের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হওয়ায় তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি চরম বিরোধী বা শত্রু হলেও তিনি যেন অন্যায়ের শিকার না হন—সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।