হোম > জাতীয়

কৃষিতে দক্ষ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের কৃষি খাতে সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকৌশল কাঠামো গড়ে তোলা এবং কারিগরি পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে কৃষিকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ জনবলনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে বৃহস্পতিবার আয়ো‌জিত এক সে‌মিনা‌রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সে‌মিনা‌রে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সুশাসনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে কৃষি খাতে সমন্বয়ের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো কৃষি প্রকৌশলভিত্তিক একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি। কৃষিকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি পদে অকারিগরি জনবল নিয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও কার্যকারিতা অর্জিত হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি পদে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক স্থানে সঠিক জনবল নিয়োগের মাধ্যমেই উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল ও টেকসই করা সম্ভব। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কৃষির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহ্‌রিন ইসলাম তুহিন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো প্রায় ৯৭ শতাংশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি, সময় সাশ্রয় এবং ব্যয় হ্রাস সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রতিবছর বন্যার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যার পানিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানি থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। পাশাপাশি কারিগরি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল খাত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি আধুনিকায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশল খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে প্রতিবছর কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই ১৫ এপ্রিলের আগেই বোরো ধান কাটার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, দ্রুত ধান কাটার প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় শ্রম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বন্যা পূর্বাভাস ও পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম বলেন, দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হয়। আগে এই ধান কাটতে প্রায় ৪২ দিন সময় লাগলেও আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে বর্তমানে মাত্র ২৩ দিনেই ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও লাভজনক হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, সেচ ব্যবস্থাপনায় সৌরশক্তির ব্যবহার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাও নিশ্চিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কৃষিতে পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। পানির অপচয় রোধ করে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী। তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, কৃষি অবকাঠামো, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কৃষি প্রকৌশল খাতের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃষিকে টেকসই, লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে হলে কৃষি প্রকৌশল খাতকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। দেশের সব কৃষিযন্ত্রের ডিজিটাল নিবন্ধন, অবস্থান শনাক্তকরণ, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যসচিব প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বিপ্লব। সভাপতিত্ব করেন আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সেক্রেটারি প্রকৌশলী মো. বেলাল সিদ্দিকী।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত আরও আধুনিক, দক্ষ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে পরিণত হবে।

এএস

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফাঁদে পড়ার প্রয়োজন নেই

মে মাসের ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা

যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভা

জবাবদিহিমূলক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গঠনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

একদিনে ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

রোববার থেকে বিআরটিসির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ