সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান অবস্থান ও অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন সংসদ সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে সরকারের কাছে জানতে চান।
রোকেয়া বেগম বলেন, তিনি প্রতিশোধ চান না, চান ন্যায়বিচার। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অন্যতম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, অর্থ পাচার, অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলন, আর্থিক অনিয়ম, পাসপোর্ট জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।
এসব অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। রোকেয়া বেগমের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে সরকারি ঘোষণা ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত নথি পাঠিয়েছে।
তবে শুধু গ্রেপ্তার হওয়া আর বিচার নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয় উল্লেখ করে রোকেয়া বেগম বলেন, একজন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা, তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে সরকারের বর্তমান অবস্থান কী এবং এ বিষয়ে আইনগত ও কূটনৈতিক বাধা কতটা দূর হয়েছে, তা জাতির জানার অধিকার রয়েছে।
এ সময় বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোকেয়া বেগম। তিনি জানতে চান, সেন্ট লুসিয়ায় তার বর্তমান অবস্থা কী, তিনি হেফাজতে আছেন, নাকি আদালতের নির্দেশে মুক্ত রয়েছেন।
বিদেশে অবস্থানরত কোনো অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মামলা, সম্পদ শনাক্তকরণ, প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যর্পণ এবং বিচার—এই চারটি ধাপের অগ্রগতি সংসদে নিয়মিত জানানোর কোনো ব্যবস্থা সরকার পরিকল্পনা করছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান তিনি।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে প্রতিশোধ চাই না, আমি চাই বিচার।’ কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা বিদেশে অবস্থানের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকুক—এটি তিনি চান না বলেও মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে সংসদের কাছে নিশ্চয়তা চান তিনি।