মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল দ্রোহ ও বিদ্রোহের কবি নন, তিনি মানবতা, সাম্য, প্রেম ও প্রতিবাদের কবি।
সোমবার কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন-এ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নজরুল দীর্ঘ সময় কুমিল্লাতে কাটিয়েছেন। আগামী প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এই অঞ্চলে বহু গুণী শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে এবং দেশের নানা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা এখান থেকেই হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লাতে কবি নজরুল কবিতা ও গান রচনা করেছেন, সঙ্গীতচর্চা করেছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন, যা তাঁর কুমিল্লার প্রতি গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, যুগে যুগে মানবজাতির কল্যাণে সৃষ্টিকর্তা কিছু অসাধারণ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান, যারা সমাজকে পথ দেখান। নজরুল তেমনই একজন বিরল প্রতিভা। বিশ্বসাহিত্যে বিপ্লব ও প্রতিবাদের কবিদের মধ্যে তার অবস্থান অত্যন্ত উঁচু। তার গান ও কবিতা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস জুগিয়েছে এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামে নজরুলের গান ও কবিতা মানুষের মধ্যে প্রেরণা ও জাগরণ সৃষ্টি করেছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
লেখক ও গবেষকদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, অতীতে যারা কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গড়ে গেছেন, আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব এমন কাজ করে যাওয়া, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের স্মরণ করে।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম, এবং সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক প্রফেসর শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, ড. আলী হোসেন চৌধুরী এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাছানাত মো. মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন।
মন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
এএস