গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনালসহ বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্স আয়োজিত ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তারা এ আহ্বান জানান। সেমিনারের বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শাখার চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন।
সেমিনারে গর্ভাবস্থায় অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস) এবং গ্রেভস ডিজিজের মতো বিষয় নিয়ে সর্বশেষ চিকিৎসা নির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা উপস্থাপন করা হয়।
বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. শাহিন ইবনে রহমান, ডা. আহমেদ ইফরাদ বিন রওনক, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. রিফাত ফেরদৌস এবং ডা. আফিয়া জয়নব তন্নি। আলোচনায় অংশ নেন ডা. নাজমা আক্তার, ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান, ডা. মারুফা মোস্তারী, ডা. ফৌজিয়া আনার ও ডা. রেজওয়ানা সোবহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের প্রভাব শুধু মায়ের স্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে। এসব অগ্রগতি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় এখন বহুমাত্রিক (মাল্টিডিসিপ্লিনারি) সমন্বিত চিকিৎসা অপরিহার্য। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে সহায়তা করে।
উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের সময়োপযোগী ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এজন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশে এন্ডোক্রাইন চিকিৎসার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার (পিএমডি) শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
এমএমআর