হোম > জাতীয়

‘বাবারে—ওপরের দিকে তাকাইয়ো না, নিচের দিকে তাকাও’

নজিরবিহীন ঘটনা শুনে হাবিলদার জসিমকে সুবেদার ইসহাক

আতিকুর রহমান নগরী

ফাইল ছবি

পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৪৭ সাক্ষীর জবানবন্দিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তার মধ্যে ৮ নম্বর কয়েদি সাক্ষী হাবিলদার জসিমের জবানবন্দিতে বিডিআর ইউনিফর্ম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপসারণের ঘটনাটি উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিশনকে হাবিলদার জসিম জানান—বিডিআর সদর দপ্তর থেকে ইউনিফর্মের কাপড় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপসারণ করা হয়। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুইটি গাড়ি পিলখানায় এসে বিডিআর সৈনিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ইউনিফর্মের ৯ থান কাপড় নিয়ে যায়।

ভাণ্ডারে দায়িত্ব পালনকারী হাবিলদার জসিম উদ্দিন খানের সাক্ষ্য অনুযায়ী— আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার দিকে দুইটি গাড়ি ভাণ্ডারের গেটে এসে হর্ন দেয় এবং দায়িত্বরত সিপাহীকে গেট খুলে দিতে বলে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন—তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছেন। গাড়ি ঢুকিয়ে দুইজন সিভিল অফিসার নামেন এবং তখন ভাণ্ডারে কর্তব্যরত অফিসারের (মেজর বা ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার) সাথে কথা বলেন। কথা বলে তারা ফেরত এলে সুবেদার ইসহাক ভাণ্ডার খুলে ৯ থান নতুন ইউনিফর্ম-এর কাপড় তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।

হাবিলদার জসিমের সাক্ষ্য অনুযায়ী—এসব কাপড় প্যারেড এর জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তখনো এই কাপড় সৈনিকদের জন্য ইস্যু করা হয়নি। হাবিলদার জসিম যখন এরকম একটি ঘটনা নিয়ে ভাণ্ডারে সুবেদার ইসহাককে জিজ্ঞেস করে কাপড় কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন তিনি জানান—এসব কাপড় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তারা বিডিআরের ইউনিফর্ম পরে প্যারেড দেখতে আসবেন। এরকম নজিরবিহীন একটি ঘটনা শুনে হাবিলদার জসিম বিস্ময় প্রকাশ করলে সুবেদার ইসহাক তাকে বলেন,‘বাবারে— ওপরের দিকে তাকাইয়ো না, নিচের দিকে তাকাও’।

বিডিআর সদর দপ্তরে কর্মরত দর্জি আকাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম বানাতে তার অফিসে গমন করেন এবং তার শরীরের মাপ নিয়ে আসেন। সোহেল তাজ এর ইউনিফর্ম বানানোর জন্য সদর রাইফেল ব্যাটালিয়ন এর মেজর মোস্তাক তাকে নির্দেশ দেন। ইউনিফর্মের জন্য মাপ নিতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ডিএডি তৌহিদ আকাশকে সোহেল তাজের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে সোহেল তাজের শরীরের মাপ নিয়ে তার কিছুদিন পরেই তিনি ইউনিফর্ম তৈরি করে সোহেল তাজ এর অফিসে পৌঁছে দেন।

আকাশের ভাষ্য মতে— সোহেল তাজের জন্য বানানো ইউনিফর্মে কোনো র‍্যাংক লাগানো হয়নি কিন্তু ডিপ সাইন ছিল। ইউনিফর্ম পৌঁছে দেয়ার দিন আকাশের সাথে সোহেল তাজ এর দেখা হয়নি।

আকাশ আরো জানান—যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ প্যারেড দেখতে আসবেন বলে তার নিজের জন্য একটি ইউনিফর্ম বানাচ্ছেন, এমন অভূতপূর্ব ঘটনা অন্যান্য অফিসাররা জানতে পারলে তাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে এবং তারা অনেকেই ইউনিফর্মটি দেখেন, যেমন : হত্যাকাণ্ডে শহিদ কর্নেল আনিস, মেজর হুমায়ুন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। এই নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্ত করে রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে কমিশন।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯ নম্বর গেটের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দুর্নীতি-অপচয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এতিম ও পথশিশুদের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

ইসলামী ব্যাংক সংকটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আহ্বান সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের

দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন: নৌ প্রতিমন্ত্রী

পুশইন প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার

মে মাসে ভারত সীমান্তে ৬ বাংলাদেশি নিহত, আটক ১৪

ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের

দৌলতদিয়া ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন