হোম > জাতীয়

মানবাধিকারের এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে নিরেট-স্বচ্ছ আইনের দাবি

গোল টেবিল আলোচনায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার

গুমের সাথে জড়িত সব অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিলম্বিত বিচার, বিচারহীনতার শামিল। মিষ্টি মিষ্টি কথা আর ফাঁকা বুলিতে তরুণরা অতীতেও ভোলেনি, এখনও আর ভুলবে না। জনগণের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে নেবেন না। এই ভুল ধারণায় অতীতে যারা অবিচার করেছিলেন, তারা এখন দেশে নেই। মানবাধিকারের এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে ফাঁকা বুলির আইন নয়, বরং নিরেট এবং স্বচ্ছ আইন চাই। ভালো ও শক্তিশালী আইন এবং সিস্টেম তৈরি হলে আমাদের বাহিনীগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। দায়মুক্তি হবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আন্তর্জাতিক নিখোঁজ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত ‘ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, মানবাধিকার কর্মী, রাজনীতিক, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, গুমের ক্ষেত্রে, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে আমরা ফাঁকা বুলির আইন না, বরং নিরেট এবং স্বচ্ছ আইন দেখতে চাই। যারা গুমের সাথে যুক্ত একটি বাহিনীর গোটা অর্গানের হয়ত ছোট্ট একটি অংশ বা পোরশন যারা গুমের সাথে সরাসরি যুক্ত -আমরা তাদের বিচার চাই। যারা সরাসরি এতে কানেক্টেড, যারা হুকুম দিয়েছেন, যারা এটার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন কিংবা যারা মনে করেছেন যে এই গুম করার মাধ্যমে তাদের কোনো ফায়দা হতে পারে, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হোক এটাই আমাদের চাওয়া।

তিনি আরো বলেন, আমরা বাহিনীগুলকে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই -তারা অনেক সময় মনে করতে পারে যে গুমের বিচার হলে পুরো বাহিনী বিপদে পড়বে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং যদি গুমের বিচার নিশ্চিত হয়, তবে ক্ষমতায় যারা থাকবেন বা যারা ক্ষমতার ধারক-বাহক, তারা আপনাদের (বাহিনীকে) গুম বা খুন করার জন্য আর চাপ প্রয়োগ (প্রেশার ক্রিয়েট) করতে পারবে না। এর ফলে আপনারা একটি গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবেন। ক্ষমতা জাহির করার জন্য গুম বা খুন করার কোনো প্রয়োজন আপনাদের নেই।

এনসিপি সদস্য সচিব আরো বলেন, আমাদের ধারণা, এই বাহিনীগুলোর খুবই সামান্য অংশ -হয়ত এক শতাংশও হবে না যারা এই গুম ও খুনের সাথে সরাসরি জড়িত। গত ১৬ বছরে যারা সিস্টেমেটিক্যালি গুম ও খুন করেছে, সংখ্যায় তারা যতজনই হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। বাংলাদেশে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ গুম বা খুন করতে না পারে এবং বাহিনীগুলোতে এই অপসংস্কৃতি যেন চিরতরে বন্ধ হয়, সেজন্য গুম বিরোধী আইনটি যেন কোনোভাবেই ফাঁকা বুলি না হয়ে একটি নিরেট ও স্বচ্ছ আইন হয়। গুম, মানবাধিকার এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রশ্নে আমরা কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং বাস্তব ও কার্যকর আইন দেখতে চাই।

গুম ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনের বিষয়ে বলতে গিয়ে ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাদের সবার কাছের মানুষ। ২০২৫ সালে যখন এসব আইন লেখা হয়, উনি এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং উনার অফিসে বসেই এগুলো লেখা হয়েছে। কিন্তু আজ সেই আইনগুলো উনার সামনেই একটি নিরর্থক আইনে পরিণত হতে চলেছে, আইওয়াশে পরিণত হতে চলেছে। আমি আপনাদের বলব -দয়া করে বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না। আপনাদের মিষ্টি মিষ্টি কথা আর ফাঁকা বুলিতে আমাদের তরুণরা অতীতেও ভোলেনি, এখনও আর ভুলবে না। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আগে, সংসদীয় পদ্ধতি এবং আলোচনার ওপর জনগণের আস্থা হারানোর পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরো বলেন, আমাদের ভাই-বোনদের ধৈর্যের সীমা হারিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে নেবেন না। এই ভুল ধারণায় অতীতে যারা অবিচার করেছিলেন, তারা এখন দেশে নেই। শহীদ জিয়াউর রহমানের রক্ত যার শরীরে আছে, তার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। শহীদী রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সংসদ এবং সংসদের ওপর জনগণ আস্থা রাখতে চায়, কিন্তু তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।

এসময় গুমের ভিক্টিম পরিবারের আইনি স্বীকৃতি ও তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান ব্যারিস্টার আরমান।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আজমী বলেন, বিলম্বিত বিচার বিচারহীনতার শামিল। যেখানেই কোনো অবিচার হয়, সেখানেই সুবিচারের জন্য একটা উদ্যোগ জরুরি। আমাদের দেশে বিচার বিলম্বিত হয় এবং অবিচার হয়। কোন সভ্য দেশে কোন সভ্য সরকার গুমকে প্রশ্রয় দিতে পারে না। আমরা এমন কোনো আইন প্রণয়ন হতে দেখিনি যা আমাদের আশাবাদী করবে। অথচ মুক্তির পর আমাদের একবুক আশা ছিল আমরা এগিয়ে যাব। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে এখন আমরা পিছিয়ে গেছি। যে দেশে আইনের শাসন নেই সেটি সভ্য দেশ নয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, এই আইন দিয়ে গুম ঠেকানো যাবে না। খুবই জঘন্য আইন হয়েছে। আপনারা বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরেওকারের আমলের থেকে ভালো করবেন। কিন্তু ভালোতো হয়নি, আওয়ামী লীগের আমলের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এটা সংশোধন করে যথাযথ আইনি কাঠামো দিন। যাতে করে বাংলাদেশে আবার গুম ফেরত না আসে।

তিনি আরো বলেন, এই আইন দেখে মনে হচ্ছে যারা এসবের সাথে জড়িত ছিল তারাই আপনাদেরকে দিয়ে এই আইনগুলো লেখাচ্ছে। এই আইন দিয়ে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ হবে না। এই জাতি বারবার প্রতারিত হয়েছে। আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না। আমরা প্রতারিত হওয়াটা মেনে নেব না। আমরা চাই গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত এমনভাবে করা হোক যাতে সত্যিকারার্থে গুমের বিচার করা সম্ভব হয়।

অধিকারের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর তাসকিন ফাহমিনা বলেন, ভালো ও শক্তিশালী আইন এবং সিস্টেম তৈরি হলে আমাদের বাহিনীগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। দায়মুক্তি হবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হবে। গুম আর ফেরত আসবে না। আমরা এদেশে আর কোনো গুম দেখতে চাই না। এই আইনে বাহিনীগুলো যদি দায়মুক্তি পায়, তাহলে এটা কোনো সরকারের জন্যই ভালো না। কারণ কোনো সরকারই চিরস্থায়ী না। একটা সময় তারা সরকার থেকে গেলে তাদের জন্যও ক্ষতিকর হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মানবাধিকার কমিশন সদস্য ডা. নাবিলা ইদ্রিস, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন অফিসার, বাংলাদেশ মো. জাহিদ হোসাইন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক প্রমুখ।

এএস

রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলায় পরিবারের পক্ষে লড়বেন শিশির মনির

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ চায় এনডিএফ

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন এমডি সেলিম জানে আলম

বিমান বাংলাদেশ প্রি-হজ কার্যক্রম শেষ করেছে

রেমিট্যান্সে সুখবর, ২০ দিনে দেশে ঢুকল ৩২ হাজার কোটি টাকা

কোরবানির চামড়া অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে

সংসদের লাইব্রেরীর জন্য গুম সংক্রান্ত বই কেনার সুপারিশ

দেশে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক হাম রোগী শনাক্ত

স্বাধীন ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্লাটফর্ম গঠনের আহ্বান শীর্ষ সম্পাদকদের