টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন
বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ‘দ্য ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬’ শীর্ষক এ তালিকা প্রকাশ করে টাইম। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ প্রভাবশালী নেতাদের পাশেই রয়েছে তারেক রহমানের নাম। ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক চার্লি ক্যাম্পবেল।
এতে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৫৭ বছর বয়সী এ রাজনৈতিক বিরোধী আন্দোলনের কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। দীর্ঘ ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে যা তিনি বাস্তবে রূপ দেন।
এ বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা মরহুমা খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেন। তিনি ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচদিন পরই মারা যান তার মা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও তিনি শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এ শোককে কাজে লাগিয়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত। এছাড়া আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।
এতে আরো বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগগুলো (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করেছে) তার সম্ভাব্য হানিমুন পিরিয়ডকে অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।
এ তালিকায় আরো আছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি প্রমুখ।