হোম > জাতীয়

ম্যালেরিয়াবাহী মশার পেটে ৩১০ কোটি টাকা, সুখবর নেই নির্মূলে

আজাদুল আদনান

গত ছয় বছরে ম্যালেরিয়াবাহী মশার পেটে গেছে ৩১০ কোটি টাকার বেশি। বিপুল পরিমাণ এ অর্থব্যয়ের পরও রোগটি নির্মূলে সুখবর নেই। সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দুদেশÑভারত ও মিয়ানমারের অসহযোগিতা, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাওয়া, মশার জীবাণুর ধরনে পরিবর্তনে এখনো প্রতি বছরই প্রাণ কাড়ছে মশাবাহিত রোগটি। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূল অনেকটা অসম্ভব বলে মনে করছেন খোদ নির্মূল কর্মসূচির সঙ্গে জড়িতরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো রোগ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে নির্মূল অনেক বেশি কঠিন। নির্মূল করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত এলাকায়ও অন্তত ১০ শতাংশ পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের প্রত্যক্ষ সমন্বয়। কিন্তু প্রতি বছর দেশগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে বৈঠক হলেও পরিকল্পনা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে, যা বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রধান বাধা। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, একক কোনো ব্যবস্থায় নয়, ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রয়োজন সমন্বিত জোরালো পদক্ষেপ। গতানুগতিক ধারায় চললে আগামী দুদশকেও নির্মূল সম্ভব নয়।

ছয় বছরে মশার পেটে ৩১০ কোটি টাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ থেকে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ছয় বছরে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৩৭৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। একই সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উন্নয়ন সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস দিয়েছে ২০৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বরাদ্দ ছিল ৬০৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে অর্ধেকের বেশি, ৩১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১০ শতাংশ প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনারসহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলে যায়। বাকি ৯০ ভাগ যায় শনাক্তকরণ কিট, চিকিৎসার ওষুধ, ইনজেশন, মশারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে। আর গ্লোবাল ফান্ডের দেওয়া অর্থের ৮০ ভাগ যায় এ খাতে।

বরাদ্দের ১০-১৫ শতাংশ চলে যায় কর্মকর্তাদের পকেটে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্লোবাল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থের ২০ শতাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়। যেখানে অন্তত ১০ শতাংশ চলে যেত লাইন ডিরেক্টর, কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার আর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজারের পকেটে। সংস্থাটি ৮০ ভাগ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশকে না দিয়ে কিট, ওষুধসহ চিকিৎসা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে সরাসরি যুক্ত থাকে। ফলে সেখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে সরকারি বরাদ্দের কেনাকাটায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনের মাধ্যমে কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হতো।

কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত সাবেক দুজন কর্মকর্তা জানান, প্রতি অর্থবছরের শেষ সময়ে বরাদ্দ অবশিষ্ট থাকলে সেটি কীভাবে ব্যয় করা যায়, তা নিয়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখান লাইন ডিরেক্টর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ফলে প্রশিক্ষণ, সভা না হলেও ভুয়া বিল তৈরি অর্থ আত্মসাতের বহু ঘটনা রয়েছে। অতীতে যারাই এসব পদে ছিলেন প্রত্যেকই এসব অনিয়মে জড়িত বলেও জানান ওই কর্মকর্তারা।

এখনো ৯ জেলায় সংক্রমণ, তিন জেলা উচ্চ ঝুঁকিতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, পার্বত্য তিন জেলায় ২০১০ সাল থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংক্রমণের চিত্র বদলায়নি। অবশ্য গত বছর থেকে আবারও কমতে শুরু করেছে। তবে মৃত্যু বাড়ছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্যমতে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে গত বছর ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কুড়িগ্রাম এ চারটি জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হয়। বাকি ৯ জেলার মধ্যে ছয় জেলাÑসিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী তিন জেলাÑরাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

২০১৯ সালে পার্বত্য তিন জেলাÑরাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তখন সবচেয়ে বেশি প্রকোপ ছিল বান্দরবানের থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায়। ওই বছর দেশে ১৭ হাজার ২২৫ জন আক্রান্ত হয়, মারা যান ৯ জন। যার ৯৫ ভাগই ছিল পার্বত্য তিন জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ ছিল বান্দরবানে।

২০২০ সালে ছয় হাজার ১০৪ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মারা যায় সাতজন, ২০২১ সালে সাত হাজার ২৯৪ জন আক্রান্তের বিপরীতে মারা যায় ৯ জন। কোভিড মহামারির কারণে ওই দুই বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছিল। কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর পুনরায় বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে ২০২২ সালে ১৮ হাজার ১৯৫ জন, ২০২৩ সালে ১৬ হাজার ৫৬৭ জন। গত বছর ১৩ হাজার ১০০ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মারা যায় ৯ জন। আর চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৫৯১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।

ঢাকায় ম্যালেরিয়ার উপস্থিতি

গত বছর ডেঙ্গু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ঢাকায় ম্যালেরিয়াবাহী অ্যানোফিলিস মশা ধরা পড়ে একদল কীটতত্ত্ববিদের বসানো ফাঁদে। ওই গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার। যদিও এ তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

চলতি বছর ঢাকায় বাস করেন এমন ২৬ জনের দেহে ম্যালেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। একজনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি রাজধানীর সূত্রাপুরের বাসিন্দা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তরা কেউই ঢাকায় আক্রান্ত হননি। প্রত্যেকের বান্দরবান ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফাঁদে নির্মূল কর্মসূচি

ম্যালেরিয়া নির্মূলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সীমান্তে একযোগে কাজ করতে ২০১৭ সালে একটি চুক্তিতে সই করে। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছেÑভারত, মিয়ানমার, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড ও তিমুর-লেস্তে। এর মধ্যে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে নিজেদের ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্তের এক পাশে দেশে উচ্চ প্রকোপ, অন্য পাশে কম হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তা যেমন বলা হয়েছে, সীমান্তের উভয় পাশে সমানভাবে ছড়ালে কেমন ব্যবস্থা নিতে হবে তা-ও বলা হয়েছে। আর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সীমান্তবর্তী জেলার স্থানীয় প্রশাসন। তবে বাস্তবতা বলছে, চুক্তির পুরোটাই রয়ে গেছে কাগজ-কলমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ম্যালেরিয়া এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফাঁদে পড়েছে। ভারত একটা পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকলেও নির্মূলে যে ধরনের সহযোগিতা দরকার, সেটি করছে না। বিগত সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও তারা সব সময়ই চাইত, আমরা যেন তাদের আগে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে না পারি। এজন্য তারা ডব্লিউএইচওর (ম্যালেরিয়া বিভাগ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে সবচেয়ে অযোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়, যিনি এ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেনই না।’

সরকারের ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে ১০ বছর ধরে কাজ করছেন এপিডেমিওলজিস্ট মশিকুর রহমান বিটু। আমার দেশকে তিনি বলেন, চুক্তিবদ্ধ যে দুটি দেশ ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো দেশের সীমান্ত নেই। উল্টোচিত্র বাংলাদেশের। নির্মূলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েও ভারত ও মিয়ানমারের মতো সীমান্তবর্তী দেশের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার অভাবে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে হলে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ডব্লিউএইচওর মধ্যস্থতায় কার্যক্রম জোরালো করা দরকার।’

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির পরিচালনা উপদেষ্টা ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর দেশগুলো বড় করে বৈঠক করছে। কিন্তু কোনো কর্মপরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ভারত ও মিয়ানমার থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে একতরফাভাবে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে হাজারো পদক্ষেপ নিয়েও ম্যালেরিয়া নির্মূল করা কঠিন।’

জীবাণুর ধরনে পরিবর্তন, শনাক্তে লাগবে নতুন কিট

ম্যালেরিয়ার জীবাণুর ধরনে পরিবর্তন হওয়ায় শনাক্তকরণেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হলেও ফল নেগেটিভ আসছে। এমতাবস্থায় কিট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্লোবাল ফান্ডকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি কিট যাচাইয়ে অক্টোবরের শেষদিকে ভারতে থাকা ডব্লিউএইচওর রেফারেল ল্যাবে ২০টি নমুনা পাঠানো হয়েছে।

ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আইসিডিডিআর,বির (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ল্যাবে কয়েকটি ব্যাচের কিট পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ফলস রিপোর্ট আসে। পরে সব ব্যাচ আইসিডিডিআর,বির ল্যাবে পরীক্ষা করানো হয়। পরে দেখা গেল কিটের সমস্যা নেই, জীবাণুর ধরন পরিবর্তন হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বড় অংশই থাকে কক্সবাজারে। জেলাটিতে সমতলের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ব্যাপক আকারে ছড়িয়েছে ম্যালেরিয়া। ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দ্রুত বেড়েছে। চলতি বছরও শতাধিক রোহিঙ্গা আক্রান্ত হন, এর মধ্যে মারা গেছে ছয়জন।

ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে এখন অন্যতম প্রধান বাধা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছড়ানো সংক্রমণ। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে জ্বর এলেও তারা রিপোর্ট করে না। ফলে তাদের শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

তবে বিপরীত কথা বলছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ম্যালেরিয়া নির্মূলে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির পরিচালক ড. আকরাম হোসেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আক্রান্ত হলেও তা নির্মূলে বাধা হওয়ার মতো নয়। শনাক্তকরণের পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, কীটনাশক মশারি প্রদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে মূল সমস্যা ক্যাম্পের বাইরে বনাঞ্চলে সংক্রমণ।

নির্মূলে ভ্যাকসিনে ভরসা সরকারের

ম্যালেরিয়া নির্মূলে স্বাভাবিক কার্যক্রম হিসেবে পাবর্ত্য তিন জেলা বান্দরবানের থানচি ও আলীকদম উপজেলার ৩৫টি গ্রামে টার্গেটেড ক্যাম্পেইন চলছে। তবে নির্মূলে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ভ্যাকসিনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নির্মূল কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানান, গত বছর থেকে ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে। তিন ডোজের এ টিকা ইতোমধ্যে আলীকদম উপজেলার ১০০টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘যেসব এলাকা হট স্পট, সেখানে ব্যাপক আকারে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। তবে নির্মূলে ভ্যাকসিনের বিকল্প নেই। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে একই ভ্যাকসিনে ৮০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর আক্রান্ত হওয়ার হার আশানুরূপভাবে কমে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘জেলাভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় গত বছর ময়মনসিংহ বিভাগকে ম্যালেরিয়ামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছর সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই আমরা। সে অনুযায়ী দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল অসম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

গতানুগতিক চিন্তায় ২০ বছরেও নির্মূল অসম্ভব

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে কৌশল বদলাতে হবে। আমাদের দরকার সমন্বিত কঠোর ব্যবস্থা। অধিক সংক্রমিত পাড়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, মশা কামড় যাতে না দেয় তা নিশ্চিত করা, উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, লার্ভা ও অ্যাডাল্ট মশাকে মেরে ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে সবখানে কার্যক্রম এক। সেখানে রোহিঙ্গা কিংবা সমতল-আলাদা করে দেখার কিছু নেই। মূল বিষয় হলো বাহক নিয়ন্ত্রণ। বান্দরবান ও রাঙামাটির গহিন অরণ্যে কিছু মানুষের মাঝেমধ্যে যাতায়াত থাকলেও সেখানে কেউ বাস করে না। সেখানে ম্যালেরিয়ার পরজীবীকে মারতে পারলেই নির্মূল অর্জন সম্ভব।’

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৯২১৯৬ প্রবাসীর নিবন্ধন

ন্যায়বিচার নির্ভর করে বিচারকের দক্ষতা নিরপেক্ষতার ওপর

এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া, উদ্বিগ্ন দেশবাসী

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

রাষ্ট্রসংস্কার কী সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকাবুলি—প্রশ্ন টিআইবির

সৃষ্টিকর্তার কৃপায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন: অপর্ণা রায়

খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনা করেছেন সাইফুল হক

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়লেও বাধাগ্রস্ত করছে শীতের আগমনে

ইন্টারপোলের সম্মেলন থেকে দেশে ফিরলেন আইজিপি

কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বিতরণ