মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মাছ চাষ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সকালে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হল সংলগ্ন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে মাছ চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে মাছ চাষের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করতে পারে।
একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এ খাতেও আরো অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাছ চাষের জন্য সব সময় বড় জলাশয়ের প্রয়োজন হয় না বলেও জানান বিজিবি মহাপরিচালক। তার মতে, ছোট পুকুর ও অন্যান্য উপযুক্ত জলাশয়েও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদন বাড়লে মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে থাকা পুকুর ও জলাশয় যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন মহাপরিচালক। এসব জলাশয়ে মাছ চাষের পরিধি আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘বিজিবির মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। কর্মসূচির আওতায় বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিটে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এএম