দেশের চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব এবং যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনা করে এই ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
রোববার রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অঞ্চলভেদে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রকৃত দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করে মাঠপর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানোর প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক ও আনন্দময় পরিবেশ আনতে কর্মশালায় বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী বছর থেকে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে নতুন কারিকুলামে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলা।
রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান। এছাড়া রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।